
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রামে জামাই বিশ্বজিৎ বাড়ৈ (২৮) তার স্ত্রীর স্বীকৃতি ও তাকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে পেতে অনশন শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার থেকে বিশ্বজিৎ আলিসাকান্দি গ্রামের তার শাশুড়ি বাড়ীতে অবস্থান করছেন। এই ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজিৎ বাড়ৈ ও অনুশীলা বাড়ৈ (২৩) প্রায় ১০ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। চার বছর আগে তারা ঢাকা হাইকোর্টে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে গোপনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু সম্প্রতি অনুশীলা তার পরিবারের প্রভাব ও নিজের কর্মজীবনের কারণে সম্পর্ক থেকে দূরে সরে আসেন।
অনশনরত বিশ্বজিৎ সাংবাদিকদের বলেন,
“আমাদের সম্পর্ক ১০ বছর ধরে চলছে। অনুশীলার নার্সিং পড়াশোনার জন্য আমি প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। ঢাকায় আমরা একসাথে বাসা ভাড়া করেও থাকতাম। কিন্তু চাকরি নেওয়ার পর তার পরিবার ও এলাকায় কু-প্রচনার কারণে আমাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এখন আমি বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়িতে অনশন শুরু করেছি। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব।”
অন্যদিকে অনুশীলা বাড়ৈ জানান, “আমার সঙ্গে বিশ্বজিৎ আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোর্ট বিয়ের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। আমি এক সপ্তাহ আগে তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। এখন আমি তার সঙ্গে সংসার করতে চাই না।” সত্য সনাতন টিভি
অনুশীলার বাবা মনতোষ বাড়ৈ বলেন, “আমরা শুনেছি, আমাদের মেয়ে গোপনে প্রেম ও বিয়ে করেছে। মেয়ের পড়াশোনার খরচও দেওয়া হয়েছে। যদি ছেলে-মেয়ে সংসার করতে চায়, আমাদের কোনো আপত্তি নেই।” স্থানীয় সদস্য ও কয়েকজন এলাকাবাসী জানিয়েছেন, “দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তারা গোপনে বিয়ে করেছে। এখন ছেলে স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করছেন। আমরা উভয় পরিবারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছি।”
ডাসার থানার ওসি মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”