
ভালোবাসা যে ভৌগোলিক সীমারেখা, ভাষা কিংবা সংস্কৃতির পার্থক্যে থেমে থাকে না তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন চীনা তরুণী ক্রিস হুয়ে এবং বাঙালি যুবক সুকান্ত সেন। দীর্ঘদিনের পরিচয় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পর দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি হিন্দু রীতিতে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।সত্য সনাতন টিভি
চীন থেকে বাংলাদেশে এসে বাঙালি কনের সাজে নিজেকে উপস্থাপন করেন ক্রিস। লাল শাড়ি, কপালে টিপ, হাতে শাখা-পলা ও সিঁথিতে সিঁদুর সব মিলিয়ে তাকে ঘিরে তৈরি হয় এক অনন্য আবহ। উপস্থিত অতিথিরা জানান, তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করেননি; বরং আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিটি অনুষঙ্গ।
বিয়ের আয়োজনে ছিল পূজার্চনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রথাগত সকল ধর্মীয় আচার। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয় বিবাহের প্রতিটি ধাপ। অনুষ্ঠানে কনের বাবা শিউরান হুয়ে আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, এই সম্পর্ক শুধু দুই পরিবারের নয় দুই দেশের মানুষের মধ্যকার বন্ধুত্বেরও প্রতীক। তাঁর বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর আবেগের সঞ্চার হয়।সত্য সনাতন টিভি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, নবদম্পতিকে ঘিরে শুভেচ্ছা আর ভালোবাসার বন্যা বইছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও ভালোবাসা থাকলে সংস্কৃতির ভিন্নতা কোনো বাধা নয়। বরং তা সম্পর্ককে করে তোলে আরও সমৃদ্ধ ও অর্থবহ।
এই আন্তর্জাতিক বিবাহ নতুন করে মনে করিয়ে দিল ভালোবাসা সত্যিই সার্বজনীন। দুই দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বন্ধন ভবিষ্যতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।