
গাজীপুরে এক ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজনে মানবতা ও সমতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী পরিবারের এক এতিম কন্যার বিয়েতে উপস্থিত থেকে আলোচনায় এসেছেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জয়দেবপুরের শায়লা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় এই বিয়ে। হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের এ আয়োজনটি দ্রুতই রূপ নেয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিতে উচ্ছ্বাসে ভেসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কনে প্রীতি রানী বাসফোর সংগ্রামী এক পরিবারের সন্তান। তার বাবা রতন বাসফোর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। মা সীমা রানী বাসফোর, যিনি প্রয়াত, তিনিও একই পেশায় যুক্ত ছিলেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েকে শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নিয়েছেন পরিবারটি। বর্তমানে প্রীতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।
এই আয়োজন কেবল একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হয়ে ওঠে সামাজিক বৈষম্য ভাঙার এক প্রতীকী বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হরিজন সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। সত্য সনাতন টিভি
জেলা প্রশাসক বলেন, সংবিধান সব নাগরিককে সমান মর্যাদা দিয়েছে। ধর্ম, বর্ণ বা পেশা কোনো পরিচয়ই মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করে না। প্রতিটি মানুষকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, এবং কোনো পেশাই ছোট নয় এই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। সত্য সনাতন টিভি
এলাকাবাসীর মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সমতার চর্চাকে আরও জোরদার করে এবং ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।