
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পৌরাণিক তীর্থস্থান আদিনাথ মন্দির ও রামায়ণখ্যাত মৈনাক পর্বত এলাকায় দিন দিন বাড়ছে অসামাজিক ও অশোভন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। তীর্থযাত্রী ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখার পরিবর্তে ভ্রমনের নামে কিছু মানুষ মন্দির এলাকাকে ফটোশুট, টিকটক ভিডিও ও ব্যক্তিগত আড্ডার স্থানে পরিণত করছে, যা পবিত্রতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেকে মন্দিরের সিঁড়িতে দীর্ঘ সময় বসে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকেন। এতে পূজারীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে বয়স্ক ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান কয়েকজন তীর্থযাত্রী এবং স্থানীয় সনাতনীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি সত্য সনাতন টিভিকে জানান,“মানুষ এখানে আসে পূজা ও আত্মিক শান্তির জন্য। কিন্তু এখন অনেকেই মন্দিরকে বিনোদন কেন্দ্র মনে করছে। সিঁড়িতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে আড্ডা দেওয়া ছবি তোলা ও ভিডিও শুট করা হয় যতক্ষণ ছবি তোলা শেষ হচ্ছে পূজারীদের দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় ছবির পোজ নষ্ট হবে বলে।”
এছাড়া পাহাড়ি ঝোপঝাড় এলাকায় কিছু প্রেমিক প্রেমিকা জুটির অশোভন আচরণের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ভ্রমণের আড়ালে অনেকেই তীর্থস্থানের পরিবেশ নষ্ট করছে, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের প্রশ্ন, “ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় মন্দির কমিটির দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়?” সত্য সনাতন টিভি
মন্দিরের প্রবেশ দ্বারে মন্দিরে প্রবেশ এবং পাহাড়ে ওঠার নির্দিষ্ট সময়সীমা লিখে দিলেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন ভক্ত ও দর্শনার্থী তারা দাবি করেন “মন্দির এলাকায় কঠোর নিয়ম চালু করা হোক।” তবে এ বিষয়ে মন্দির কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধর্মপ্রাণ দর্শনার্থীদের মতে, তীর্থস্থানকে বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত না করে এর ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।