1. sottosanatontv@gamil.com : সত্য সনাতন : সত্য সনাতন
  2. sourav@gmail.com : সৌরভ কর্মকার : সৌরভ কর্মকার
  3. info@www.sottosanatontv.com : সত্য সনাতন :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অদ্বৈত জয়ন্তী উপলক্ষে বাণীগ্রামে তিন দিনব্যাপী মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন ডাকরায় রাজাকারদের হত্যাযজ্ঞে নিহত শত শত হিন্দু শরণার্থী ফরিদপুরে ঘাস মারার ওষুধ সেবন করে হিন্দু গৃহবধূর মৃত্যু। জেএমসেন হলে সর্বজনীন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় তুলসীদান, সনাতন মানব ধর্মসম্মেলন ও যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতার আয়োজন। বৃন্দাবন কলেজ প্রতিষ্ঠাতার প্রপৌত্রী উপমা দাস প্রাপ্তির অকাল মৃত্যু পাকিস্তানের ইসলামপুরা থেকে কৃষ্ণনগর: লাহোরে ফিরছে হারানো ইতিহাসের নাম। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে জরুরি সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯ হিন্দু শিক্ষার্থীর যোগদান,শক্তিশালী হলো ছাত্র মহাজোট লামায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ ঋষি আশ্রমে মহানামযজ্ঞ ও ধর্মসভা সম্পন্ন বগুড়ার গাবতলীতে হিন্দু গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা

ডাকরায় রাজাকারদের হত্যাযজ্ঞে নিহত শত শত হিন্দু শরণার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

 

১৯৭১ সালের ২১ মে। সুন্দরবনঘেঁষা বাগেরহাটের শান্ত গ্রাম ডাকরা পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী রাজাকারদের নির্মম হামলায় সেদিন প্রাণ হারান অন্তত ছয় শতাধিক নিরীহ হিন্দু শরণার্থী। অনেককে গুলি করে হত্যা করা হয়, আবার অনেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার পরও রেহাই পাননি—কালী মন্দিরের সামনে তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল।

 

ডাকরা গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী অতীন্দ্রনাথ হালদার দুলাল আজও সেই দিনের ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে পারেননি। তিনি বলেন, রাজাকারেরা চলে যাওয়ার পর চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। কালী মন্দিরের সামনে গুলিবিদ্ধ আহত মানুষদের ধরে এনে আকিজ উদ্দিন ও মজিদ কসাই গলা কেটে হত্যা করেছিল বলেও জানান তিনি। সত্য সনাতন টিভি

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের ডাকরা গ্রাম ছিল কালী মন্দিরকেন্দ্রিক একটি জনপদ। মন্দিরের সেবায়েত পরিবারগুলো বহু প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাস করত। ধর্মগুরু বিনোদ বিহারী চক্রবর্তী, যিনি ‘নোয়াকর্তা’ নামে পরিচিত ছিলেন, ছিলেন ওই অঞ্চলের বহু ভক্তের আস্থার কেন্দ্র।

 

১৯৭১ সালের মে মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকলে স্থানীয়রা ভারত যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় মুসলিম লীগ সমর্থক ও শান্তি কমিটির কয়েকজন সদস্য নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তাদের দেশত্যাগ না করতে বলেন। সেই আশ্বাসে অনেকেই থেকে যান।

 

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠলে ২১ মে সুন্দরবন হয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগেরহাট, রামপাল, মোড়েলগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো হিন্দু শরণার্থী ডাকরায় এসে জড়ো হন। ২০ মে রাতের মধ্যে ডাকরা কালী মন্দির এলাকা কার্যত শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়। সেখানে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ অবস্থান করছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, শরণার্থীদের এই সমাবেশের খবর পেয়ে শান্তি কমিটির সদস্যরা রাজাকার কমান্ডার রজ্জব আলী ফকিরকে বার্তা পাঠান। পরে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতা এ কে এম ইউসুফের নির্দেশে ডাকরায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়।

 

২১ মে দুপুরে দুটি নৌকায় করে রাজাকাররা ডাকরায় প্রবেশ করে। তারা প্রথমে নদী ও খালে অপেক্ষমাণ শরণার্থীদের নৌকায় নির্বিচারে গুলি চালায়। এরপর গ্রামে ঢুকে চারদিক থেকে ব্রাশফায়ার শুরু করে। আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করতে থাকেন।

 

রাজাকাররা নারী ও পুরুষদের আলাদা করে। অনেক পুরুষ নারী সেজে লুকানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তাদের টেনে বের করে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয়। যারা গুলিবিদ্ধ হয়েও তখনো বেঁচে ছিলেন, তাদের অনেককে কালী মন্দিরের সামনে এনে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সত্য সনাতন টিভি

 

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হন বলে গবেষকদের ধারণা। গণহত্যার পর ডাকরা ও আশপাশের গ্রামের হিন্দু বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকজন তরুণীকেও জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় রাজাকাররা।

 

প্রত্যক্ষদর্শী শিশির কুমার বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যায় লুকিয়ে থাকা স্থান থেকে বেরিয়ে এসে তিনি দেখেছিলেন চারদিকে শুধু লাশ পড়ে আছে। ঠাকুরবাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখেন তার চার কাকা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। অনেক আহত মানুষ তখনো পানি চাইছিলেন।

 

গবেষক বিষ্ণুপদ বাগচী জানান, ডাকরা গণহত্যায় নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অধিকাংশ নিহত ব্যক্তি ছিলেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শরণার্থী। খরস্রোতা নদীতে বহু মরদেহ ভেসে যাওয়ায় সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

 

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আতঙ্কের মুখে রাজাকার কমান্ডার রজ্জব আলী ফকির আত্মহত্যা করেন। অভিযুক্ত আকিজ উদ্দিন ও মজিদ কসাই কয়েক বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে যায়। আর গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত এ কে এম ইউসুফ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৪ সালে মারা যান। সত্য সনাতন টিভি

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ডাকরা গণহত্যা রাজাকারদের হাতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। আজও সেই দিনের রক্তাক্ত স্মৃতি বহন করে চলেছে ডাকরার মাটি, নদী আর কালী মন্দিরের নিস্তব্ধ প্রাঙ্গণ।

সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট