
লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরমতি তীর্থধামে পুকুর পুনঃখননের সময় মাটির গভীর থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রাচীন নিদর্শন, যা ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ।
স্থানীয়দের উদ্যোগে দীর্ঘদিন অবহেলিত পুকুরটি পুনঃখননের কাজ চলছিল। খননের একপর্যায়ে শ্রমিকদের যন্ত্রে ধাতব কিছুর আঘাত লাগে। পরে সতর্কভাবে মাটি সরিয়ে পাওয়া যায় একটি ধাতব নির্মিত প্রাচীন মূর্তি। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় কয়েকটি মাটির তৈরি পাত্র ও পুরোনো সামগ্রী।
উদ্ধার হওয়া মূর্তিটিতে সূক্ষ্ম নকশা ও কারুকাজ রয়েছে, যা প্রাচীন শিল্পরীতির পরিচয় বহন করে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি কোনো প্রাচীন উপাসনালয় বা তীর্থস্থানের অংশ হতে পারে।
খননকাজে যুক্ত এক শ্রমিক জানান, মাটি কাটার সময় হঠাৎ করেই যন্ত্রে শক্ত কিছুর শব্দ পান তারা। পরে ধীরে ধীরে খনন করে মূর্তিটি বের করা হয়। এর আগে এমন কিছু দেখেননি বলেও জানান তিনি।
প্রবীণ বাসিন্দারা বলছেন, সিন্দুরমতি এলাকা একসময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে তীর্থস্থান ও পূজামণ্ডপ ছিল, যা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়। নতুন এই আবিষ্কার সেই অতীতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ ইতিহাস ঘিরে আলোচনা করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা হলে সিন্দুরমতি তীর্থধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পরিণত হতে পারে। এ জন্য উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলো দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আশা, যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে সিন্দুরমতির এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে দেশের ইতিহাস ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।