
“পাশের বাসার ছোট্ট সেই প্রাপ্তিকে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছি,আজ সেই পরিচিত হাসিমাখা মুখটাই শুধু স্মৃতি হয়ে রইলো।”
হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীযুক্ত বৃন্দাবন চন্দ্র দাসের প্রপৌত্রী, হবিগঞ্জ বারের সদস্য এডভোকেট বিজন বিহারী দাসের একমাত্র কন্যা উপমা দাস প্রাপ্তি (২২) গত ১৯ মে রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সত্য সনাতন টিভি
অকাল এই মৃত্যুতে হবিগঞ্জসহ সমগ্র সিলেটবাসী গভীরভাবে শোকাহত। সদাহাস্যোজ্জ্বল, ভদ্র ও মিষ্টভাষী প্রাপ্তির চলে যাওয়া যেন সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পরদিন ২০ মে দুপুর ২ঘটিকায় হবিগঞ্জ পৌর শ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রাপ্তির পিতা এডভোকেট বিজন বিহারী দাস এমন এক গৌরবময় পরিবারের উত্তরসূরি, যার শিকড় জড়িয়ে আছে হবিগঞ্জের শিক্ষা ও মানবসেবার ইতিহাসের সঙ্গে। সত্য সনাতন টিভি
হাওরের দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া মহৎ ব্যক্তি বৃন্দাবন চন্দ্র দাস (১৮৫০–১৯৩২) ছিলেন হবিগঞ্জের শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। বানিয়াচংয়ের বিথঙ্গল গ্রামের এই কৃতী সন্তান নিজের মেধা, সততা ও পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হয়েও সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে কখনও ভুলে যাননি। ব্রিটিশ আমলে যখন হবিগঞ্জ কলেজ আর্থিক সংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, তখন তিনিই এগিয়ে আসেন। নিজের মায়ের অনুমতি নিয়ে কলেজের জন্য দান করেন তৎকালীন সময়ের বিশাল অঙ্কের ১০ হাজার রুপি এবং বহু জমি।
তাঁর সেই অবদানের কারণেই প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের সিলেট বিভাগের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “বৃন্দাবন সরকারি কলেজ”। অথচ এত সম্মান ও উপাধি পাওয়ার পরও তিনি নিজেকে আজীবন একজন সাধারণ কৃষকের সন্তান হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
আজ সেই মহান দানবীরের বংশধর উপমা দাস প্রাপ্তির অকাল প্রয়াণ শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক ক্ষতি।