
“দাদা, এক কাপ রং চা হবে?”আবার কখনো তিনি নিজেই হাসিমুখে বলে ওঠেন, “রং চা লাগবে দাদা?”
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী সদরের বিভিন্ন অলিগলি, বিপণিবিতান আর দোকানপাটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শোনা যায় এই পরিচিত ডাক। ডাকটির মানুষটি ৬৫ বছর বয়সী রতন দাদা। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও জীবনযুদ্ধে এখনো অদম্য তিনি।
বোয়ালখালী উপজেলার স্টাফ কোয়ার্টারসংলগ্ন একটি জরাজীর্ণ পুরোনো বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রতন দাদা। অভাব-অনটন তার নিত্যসঙ্গী। তারপরও কারও কাছে হাত পাতেন না। সংসারের খরচ জোগাতে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে বের হন হাতে চায়ের ফ্লাক্স নিয়ে। সারাদিন ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন রং চা। সত্য সনাতন টিভি
বোয়ালখালী সদরের বিভিন্ন মার্কেট, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে তিনি চা বিক্রি করেন। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেন। তার একমাত্র অবলম্বন হাতে থাকা সেই চায়ের ফ্লাক্স।
যে বয়সে অনেকের বিশ্রামে থাকার কথা, সে বয়সেও রতন দাদা বেছে নিয়েছেন আত্মসম্মানের পথ। কঠোর পরিশ্রম আর সততাকেই তিনি জীবিকার মূল ভরসা বানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সত্য সনাতন টিভিকে জানান, রতন দাদা শুধু একজন চা বিক্রেতা নন; তিনি পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার প্রতীক। তার আচরণ অমায়িক, কথাবার্তাও বিনয়ী। অনেক সময় তিনি নিজেই দোকানে ঢুকে জিজ্ঞেস করেন, “চা লাগবে?” দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এই মানুষটিকে এলাকার সবাই ভালোবাসেন।
রতন দাদা বলেন, “কষ্ট তো আছেই। কিন্তু কাজ করে খাই, এইডাই শান্তি। সারাদিন শেষে পরিবারের জন্য কিছু নিতে পারলে ভালো লাগে।”
দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু পরিবারের মুখে হাসি দেখলেই যেন ভুলে যান সারাদিনের সব পরিশ্রম। সত্য সনাতন টিভি
আজকের সমাজে যখন অনেকেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, সেখানে রতন দাদার জীবন যেন এক নীরব বার্তা দেয় ইচ্ছাশক্তি আর সততা থাকলে বয়স কখনোই বাধা নয়। তার সংগ্রামী জীবন সাধারণ মানুষের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ।