সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামের রথযাত্রায় রাধা-কৃষ্ণের রূপে দুই তরুণী, ভাইরাল ছবি শোকের মধ্যেও থামেনি দায়িত্ব, বাবার পথ ধরে হবিষ্যান্নের পোশাকেই অজগর উদ্ধার করলেন ছেলে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের রথযাত্রা মহোৎসব সাদুল্লাপুরে অর্ধশত কণ্ঠে গীতা পাঠ ও রাধাকৃষ্ণ লীলা কীর্তন হরিদাস চন্দ্রের মুক্তির দাবিতে ঐক্য পরিষদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ রথযাত্রার আয়োজন শেষে বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট বাঁশখালী উপজেলা শাখা বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে চট্টগ্রামে রথযাত্রায় বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের অংশগ্রহণ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অনন্য কৃতিত্ব: ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল বরগুনার যমজ তিন বোন রথযাত্রায় তৃষ্ণার্ত পুণ্যার্থীদের হাতে পানির বোতল তুলে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আরমান হোসেন রথযাত্রায় পরিবারের সদস্যরা, বাসায় একা ছিলেন গৃহবধূ; ঝালকাঠিতে মলিনা রায়ের মরদেহ উদ্ধার

জীবন সায়াহ্নেও থেমে নেই রতন দাদা,এক কাপ রং চায়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে সংগ্রামী জীবনের গল্প

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৯৭ বার পড়া হয়েছে

 

“দাদা, এক কাপ রং চা হবে?”আবার কখনো তিনি নিজেই হাসিমুখে বলে ওঠেন, “রং চা লাগবে দাদা?”

 

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী সদরের বিভিন্ন অলিগলি, বিপণিবিতান আর দোকানপাটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শোনা যায় এই পরিচিত ডাক। ডাকটির মানুষটি ৬৫ বছর বয়সী রতন দাদা। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও জীবনযুদ্ধে এখনো অদম্য তিনি।

 

বোয়ালখালী উপজেলার স্টাফ কোয়ার্টারসংলগ্ন একটি জরাজীর্ণ পুরোনো বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রতন দাদা। অভাব-অনটন তার নিত্যসঙ্গী। তারপরও কারও কাছে হাত পাতেন না। সংসারের খরচ জোগাতে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে বের হন হাতে চায়ের ফ্লাক্স নিয়ে। সারাদিন ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন রং চা। সত্য সনাতন টিভি

 

বোয়ালখালী সদরের বিভিন্ন মার্কেট, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে তিনি চা বিক্রি করেন। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেন। তার একমাত্র অবলম্বন হাতে থাকা সেই চায়ের ফ্লাক্স।

 

যে বয়সে অনেকের বিশ্রামে থাকার কথা, সে বয়সেও রতন দাদা বেছে নিয়েছেন আত্মসম্মানের পথ। কঠোর পরিশ্রম আর সততাকেই তিনি জীবিকার মূল ভরসা বানিয়েছেন।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সত্য সনাতন টিভিকে জানান, রতন দাদা শুধু একজন চা বিক্রেতা নন; তিনি পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার প্রতীক। তার আচরণ অমায়িক, কথাবার্তাও বিনয়ী। অনেক সময় তিনি নিজেই দোকানে ঢুকে জিজ্ঞেস করেন, “চা লাগবে?” দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এই মানুষটিকে এলাকার সবাই ভালোবাসেন।

 

রতন দাদা বলেন, “কষ্ট তো আছেই। কিন্তু কাজ করে খাই, এইডাই শান্তি। সারাদিন শেষে পরিবারের জন্য কিছু নিতে পারলে ভালো লাগে।”

 

দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু পরিবারের মুখে হাসি দেখলেই যেন ভুলে যান সারাদিনের সব পরিশ্রম। সত্য সনাতন টিভি

 

আজকের সমাজে যখন অনেকেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, সেখানে রতন দাদার জীবন যেন এক নীরব বার্তা দেয় ইচ্ছাশক্তি আর সততা থাকলে বয়স কখনোই বাধা নয়। তার সংগ্রামী জীবন সাধারণ মানুষের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews