
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য নজির গড়েছেন কলিতা মাঝি। একসময় মাসে মাত্র আড়াই হাজার রুপিতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালানো এই নারী এবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি–এর প্রার্থী হিসেবে তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলার আউসগ্রাম আসনে জয়লাভ করেন।
নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস–এর প্রার্থী শ্যামা প্রসন্ন লাহিড়ীকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে হারান। এই জয়কে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সত্য সনাতন টিভি
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কলিতা মাঝির শিক্ষাজীবন দীর্ঘ হয়নি। সংসারের দায়ভার নিতে তিনি একাধিক বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেছেন। তার স্বামী পেশায় প্লাম্বার এবং তাদের এক ছেলে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয়েছিল তৃণমূল স্তর থেকে। প্রায় এক দশক ধরে তিনি সক্রিয়ভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়ে পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পান। এরপর দল আবারও তার ওপর আস্থা রেখে ২০২৬ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দেয় এবার তিনি সেই আস্থার প্রতিদান দেন।
নির্বাচনী প্রচারে তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন, যা তার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা, যার মধ্যে ব্যাংক সঞ্চয়, নগদ অর্থ ও বীমা অন্তর্ভুক্ত। তার স্বামীর নামে প্রায় ৩ লাখ টাকার একটি ছোট আবাসিক সম্পত্তিও রয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই ফলাফল দেখিয়ে দেয় যে সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে আসা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা নেতাদেরও এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, আউসগ্রামের এই ফল রাজ্যের রাজনৈতিক কৌশলে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত মুখগুলোকেই সামনে আনা হচ্ছে।