
চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লাস্থ গুরুধাম মন্দির প্রাঙ্গণ শনিবার সন্ধ্যায় রূপ নেয় এক ভক্তিময় সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। সনাতনী সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংগীতচর্চাকে একসূত্রে গেঁথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল নতুন সংগীতগোষ্ঠী ‘টিম আরাধ্যা’।
গত ৯ মে ২০২৬ ইংরেজি রোজ শনিবার সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় আয়োজিত আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আবহ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ভক্তিমূলক সংগীতের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ। মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, সংস্কৃতিপ্রেমী ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঙ্গল প্রদ্বীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে ‘টিম আরাধ্যা’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করা হয়। প্রদ্বীপ প্রজ্বালন করেন বাঁশখালী জলদি শ্রীশ্রী অদ্বৈতানন্দ ঋষিমঠ ও মিশনের উপাধ্যক্ষ শ্রী শ্রীমৎ স্বামী রামানন্দ পুরী মহারাজ। তাঁর আশীর্বাণী ও ধর্মীয় বক্তব্যে অনুষ্ঠানের পরিবেশ আরও গম্ভীর ও আধ্যাত্মিক হয়ে ওঠে। সত্য সনাতন টিভি
অনুষ্ঠানে স্বামী রামানন্দ পুরী মহারাজ বলেন, “সংগীত মানুষের আত্মাকে শুদ্ধ করে এবং সমাজে সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত করে। সনাতনী আদর্শ ও সংস্কৃতিকে সংগীতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাজীব চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আশুতোষ সরকার, বাংলাদেশ মানবকল্যাণ ফোরামের উপদেষ্টা কঞ্চন তালুকদার, বাগীশিক চট্টগ্রাম জেলা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি নাথ (রনি), চট্টগ্রাম জন্মাষ্টমী পরিষদের পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক প্রবাস কুমার দে, বাগীশিক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক লায়ন বাসু চৌধুরী, বাংলাদেশ মানবকল্যাণ ফোরামের সভাপতি লায়ন শিমুল নন্দী, সনাতন স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ দাশ গুপ্ত, বিপ্লব খাস্তগীর, সুধীর দে, নন্দ গোপাল চৌধুরী ও সুজল চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে। সত্য সনাতন টিভি
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সনাতন স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিম লিডার প্রভাত চৌধুরী (আপন), উজ্জ্বল দে, রুপন সরকার, রুপন দাশ, অভি চৌধুরীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘টিম আরাধ্যা’র মূল লক্ষ্য হলো সংগীতের মাধ্যমে সনাতন ধর্মীয় কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, “বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই সংগীতের ভাষায় ভক্তি, মূল্যবোধ ও মানবতার বার্তা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে।”
অনুষ্ঠানে ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শিল্পীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে ভক্তি, আবেগ ও উচ্ছ্বাসে। সত্য সনাতন টিভি
উপস্থিত অনেকেই মনে করেন, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘টিম আরাধ্যা’র এই যাত্রা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। ধর্মীয় সংগীত ও সনাতনী সংস্কৃতিকে ঘিরে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।
বর্ণাঢ্য এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘টিম আরাধ্যা’ তাদের পথচলার সূচনা করল। আয়োজকদের প্রত্যাশা, সংগীতের মাধ্যমে ঐতিহ্য, ভক্তি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে দলটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।