
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্লা হিন্দুপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২২ মে) গভীর রাতে কামুল্লা হিন্দুপাড়ার কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সামান্য ভুল–বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এর আগে গ্রাম্য শালিস ও স্থানীয় মুরুব্বিদের মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একদল উগ্র যুবক পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে এ হামলা চালায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাঁদের অভিযোগ, দিনের বেলায় হুমকি দেওয়ার পর গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিল, এ ঘটনা সেই পরিবেশের ওপর বড় আঘাত বলে মনে করছেন তাঁরা।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা কাজল চন্দ্র বলেন, “অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই। কেউ অন্যায় করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো একটি সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বাড়িঘরে হামলা চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও ন্যক্কারজনক।”
তিনি নন্দীগ্রাম-কাহালু আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি বরাবরই ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব। তাঁরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং উস্কানি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় বিভিন্ন মহল ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।