
ঢাকার ধামরাই উপজেলার বেলিশ্বর গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দুই শতকের পুরোনো এক ইতিহাস বেলিশ্বর জমিদার বাড়ি। একসময় জমিদারি ঐশ্বর্য, শিল্পরুচি ও সামাজিক প্রভাবের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই প্রাসাদ আজ অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের মুখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত সংস্কার না করা হলে হারিয়ে যেতে পারে অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই ঐতিহ্য।
জানা যায়, জমিদার মদন মোহন রায় চৌধুরী প্রায় ২০০ বছর আগে বেলিশ্বর জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উত্তরসূরি মোহিনী মোহন রায় চৌধুরী, মেদেনী মোহন রায় চৌধুরী ও কুমুদ মোহন রায় চৌধুরীর সময় জমিদারির ব্যাপ্তি ও প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই পরিবারের সঙ্গে সাভারের বালিয়াটি জমিদার পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধামরাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জমিদার বাড়িটির বিভিন্ন অংশ এখন ভেঙে পড়ছে। মূল ভবনের দেয়াল থেকে ইট খসে পড়ছে, অনেক স্থানে ছাদের কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে। একসময়কার সুদৃশ্য কারুকাজ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পথে। সত্য সনাতন টিভি
প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে একটি বিশাল দুর্গা মন্দির, টিন ও কাঠের তৈরি দুটি কাছারি ঘর, পুকুরঘাটসহ দীঘি এবং কয়েকটি পুরোনো কুয়া। মূল প্রাসাদের প্রবেশমুখে এখনও টিকে আছে বড় একটি ফটক। পাশেই রয়েছে মোহিনী মোহন উচ্চবিদ্যালয়।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, দেশভাগের পর জমিদার পরিবারের সদস্যরা ভারতে চলে গেলে ধীরে ধীরে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দরজা-জানালা, মূর্তি, মূল্যবান পাথর ও নানা পুরোনো সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে। ভবনগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে একসময় সেখানে থাকা পুলিশ ফাঁড়ি ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বেলিশ্বর জমিদার বাড়িতে ঘুরতে আসা টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, “প্রতিদিন একটু একটু করে ভবনটি ক্ষয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে হয়তো কয়েক বছরের মধ্যেই এই ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাবে।” সত্য সনাতন টিভি
স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ ঠাকুর জানান, বহু চলচ্চিত্র ও নাটকের শুটিং হয়েছে এই জমিদার বাড়িতে। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরাও এখানে ঘুরতে আসেন। তাঁর মতে, সরকারিভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে এটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বেলিশ্বর জমিদার বাড়িকে দ্রুত সংরক্ষণের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হোক। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে ধামরাইয়ের এই ঐতিহ্য কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।