
আজ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিপ্লবী, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের প্রধান সংগঠক ও বীর স্বাধীনতা সেনানী মাস্টারদা সূর্য সেনের ১৩২তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রাজমনি সেন এবং মাতার নাম শশী বালা দেবী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, সাহসী ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক আদর্শ সন্তান।
মাস্টারদা সূর্য সেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শিক্ষাজীবনে সূর্য সেন চট্টগ্রাম ন্যাশনাল স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে পরবর্তীতে বহরমপুর কলেজে অধ্যয়ন করেন। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার কারণে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘মাস্টারদা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং তরুণদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন। এই অভিযানে বিপ্লবীরা ব্রিটিশ সরকারের অস্ত্রাগার দখল করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং সাময়িকভাবে চট্টগ্রামে বিপ্লবী সরকারের পতাকা উত্তোলন করেন। ইতিহাসে এই ঘটনা স্বাধীনতা সংগ্রামের এক সাহসী ও যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত।
অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিটিশ কারাগারে ফাঁসির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুর আগমুহূর্তেও তিনি সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের বার্তা দিয়ে যান।
মাস্টারদা সূর্য সেনের আদর্শ, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তাঁর জীবন থেকে দেশপ্রেম, ন্যায়বোধ ও সংগ্রামী চেতনা সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করে নতুন প্রজন্ম দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বক্তারা মনে করেন।
আজকের এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছে মহান এই বিপ্লবীকে। তাঁর দেখানো পথে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও স্বাধীনপুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবীদের সংঘর্ষ চলে। অবশেষে ১৯৩৩ সালে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে মাস্টারদা সূর্য সেন গ্রেপ্তার হন। তাঁকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে এবং ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন সর্বস্তরের মানুষ