
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনকে ঘিরে শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। কবির স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে এখন চলছে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের পাশাপাশি রবীন্দ্রপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগামী ৮, ৯ ও ১০ মে অনুষ্ঠিত হবে জন্মবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক আয়োজন। এ উপলক্ষে থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গীতিনাট্য ও রবীন্দ্র মেলা।
ঐতিহাসিকভাবে শাহজাদপুরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি। একসময় রানী ভবানীর জমিদারির অংশ ছিল এ অঞ্চল। পরে ১৮৪০ সালে কবির পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর জমিদারিটি ক্রয় করেন। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি তদারকির কাজে নিয়মিত শাহজাদপুরে আসতেন রবীন্দ্রনাথ এবং কাছারি বাড়িতেই অবস্থান করতেন।
এই কাছারি বাড়িতে বসেই তিনি রচনা করেন ‘সোনার তরী’, ‘চৈতালী’, ‘কল্পনা’র মতো কাব্যগ্রন্থ এবং ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘সমাপ্তি’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘অতিথি’র মতো বিখ্যাত ছোটগল্প। এখানকার অভিজ্ঞতা ও মানুষ তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করেন গবেষকেরা।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কাছারি বাড়ি এলাকায় এখন প্রতিদিনই চলছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মহড়া। গান, নৃত্য ও গীতিনাট্যের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বাড়ছে দিন দিন। তবে সংস্কারকাজের কারণে মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে না পেরে কিছু দর্শনার্থী ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির কাস্টডিয়ান শাউলি তালুকদার বলেন, উৎসবকে ঘিরে অডিটোরিয়াম ও মিউজিয়ামের সংস্কারকাজ চলছে। পাশাপাশি আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উৎসব শুরুর আগেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি। সত্য সনাতন টিভি
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক রবীন্দ্র অনুরাগীর আগমনের কথা বিবেচনায় রেখেই নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। নিরাপত্তা, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে প্রশাসন। সত্য সনাতন টিভি
৮ মে বাংলা ২৫ বৈশাখ উৎসবের উদ্বোধন করবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত–এরও।