1. sottosanatontv@gamil.com : সত্য সনাতন : সত্য সনাতন
  2. sourav@gmail.com : সৌরভ কর্মকার : সৌরভ কর্মকার
  3. info@www.sottosanatontv.com : সত্য সনাতন :
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুরে কাশিয়াবালা হরিবাসর অনুষ্ঠানে সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু শাহজাদপুরে রবীন্দ্রজয়ন্তীর প্রস্তুতি,কাছারি বাড়িতে উৎসবের আমেজ শরীয়তপুরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান শরণখোলায় সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, লুটপাট; দুইজন গ্রেপ্তার সড়ক দুর্ঘটনা নয়,পরিকল্পিত হত্যা,চকরিয়ায় ছয় ভাই নিহতের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় গৃহকর্মী থেকে বিধায়ক, আউসগ্রামে কলিতা মাঝির চমক স্বনামধন্য কীর্তনশিল্পী বাবুল কৃষ্ণ মহন্ত আর নেই নতুন সরকারের সূচনা, পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা একটি মায়ের জীবন বাঁচাতে সহায়তার আহ্বান 

কুমারীকুণ্ডে বাঁশ-খড়ের মন্দির পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, নিখোঁজ সতীর শিলা ও ঘট

নিজস্ব প্রতিবেদক : কাঞ্চন শর্মা | সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা দুর্গম পাহাড়ি অরণ্যের ভেতরে অবস্থিত প্রাচীন তীর্থস্থান কুমারীকুণ্ডের পাশে গড়ে উঠা বাঁশ ও খড় দিয়ে নির্মিত একটি অস্থায়ী মন্দির পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরে স্থাপিত সতীর শিলা ও ঘট পাওয়া যাচ্ছে না।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি শিবদাস সংঘের উদ্যোগে সেখানে বাঁশ দিয়ে একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করা হয়। মন্দিরে মা সতীর শিলা ও একটি ঘট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে আজ ১৩ মার্চ সেখানে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, মন্দিরটি সম্পূর্ণ পুড়ে দিয়েছে এবং ভেতরে রাখা ঘট ও শিলা নেই। মন্দিরের চারপাশেও আগুন লাগানোর চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানান তাঁরা। সত্য সনাতন টিভি

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম মজুমদার শিবদাস সত্য সনাতন টিভিকে বলেন, “আমরা গিয়ে দেখি মন্দির নেই, সব পুড়ে গেছে। সতীর ঘট ছিল, শিলা ছিল কিছুই পাওয়া যায়নি। চারপাশে আগুন লাগানোর চিহ্ন দেখা গেছে।”

কুমারীকুণ্ড সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা এলাকায় পাহাড়ি ঝিরিপথ পেরিয়ে অরণ্যের ভেতরে অবস্থিত একটি প্রাচীন তীর্থস্থান। তন্ত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রন্থে এটিকে কন্যাশ্রম শক্তিপীঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অনেক ভক্তের কাছে এটি একান্ন শক্তিপীঠের একটি বলে বিবেচিত।

 

হিন্দু পুরাণ মতে, রাজা দক্ষের যজ্ঞে অপমানিত হয়ে দেবী সতী আত্মাহুতি দিলে শোকাহত মহাদেব শিব তাঁর দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন। তখন বিশ্ব রক্ষার জন্য ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করেন। দেবীর দেহখণ্ড উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে পতিত হয়ে শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। তন্ত্রগ্রন্থ পীঠনির্ণয়তন্ত্র-এ কন্যাশ্রম নামের একটি পীঠস্থানের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে দেবীর পৃষ্ঠদেশ পতিত হয়েছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি

 

কন্যাশ্রম শক্তিপীঠের অবস্থান নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ দক্ষিণ ভারতের কন্যাকুমারীকে, কেউ উত্তর ভারতের প্রাচীন কন্যাকুব্জকে এই স্থান বলে মনে করেন। তবে কিছু গবেষকের মতে, চন্দ্রনাথ মন্দিরের আশপাশের পঞ্চক্রোশ এলাকার মধ্যেই কুমারীকুণ্ড শক্তিপীঠের অবস্থান। শক্তিপীঠ নিয়ে গবেষণা করা কয়েকজন লেখক ও তন্ত্রসাধকের গ্রন্থেও এ স্থানের উল্লেখ পাওয়া যায়। সত্য সনাতন টিভি

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বছর আগে এখানে একটি মন্দির ছিল। বর্তমানে মন্দিরের অস্তিত্ব নেই, তবে ভগ্ন লাল ইট ও ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। দুর্গম পথ হওয়ায় সেখানে যাতায়াতও কঠিন।

 

সত্য সনাতন টিভি || আমরা সত্যের সৈনিক

 

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় দুই দশক আগে গুপ্তধনের আশায় কিছু মানুষ সেখানে খননকাজ চালালে মন্দিরের অবশিষ্টাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর একসময় সেখানে একজন মোহন্ত থাকলেও তাঁর মৃত্যুর পর জায়গাটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। সত্য সনাতন টিভি

 

স্থানীয়দের দাবি, কুমারীকুণ্ড এলাকায় একই সঙ্গে উষ্ণ ও শীতল পানির উৎস রয়েছে বলে অনেক ভক্ত বিশ্বাস করেন, যা স্থানটির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

 

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় কুমারীকুণ্ড সংরক্ষণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সত্য সনাতন টিভি

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কুমিরা এলাকায় কুমারীকুণ্ডের অবস্থান। সেখান থেকে পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে হেঁটে তীর্থস্থানে পৌঁছাতে হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে প্রাচীন এই তীর্থস্থান পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট