
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক তরুণী গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কাশিপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে কারিনা দাস (২৩) নামের ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালী গ্রামের থ্রি-হুইলারচালক সঞ্জয় দাসের মেয়ে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল কবির জানান, আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে তালা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের সুজিত দাসের সঙ্গে কারিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ তাদের।
কারিনার বাবা সঞ্জয় দাস বলেন, তাঁর জামাইয়ের স্থায়ী কোনো আয় না থাকায় বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে মেয়ের ওপর চাপ দেওয়া হতো। এ নিয়ে সুজিত ও তাঁর মা প্রায়ই কারিনাকে নির্যাতন করতেন।
তিনি আরও বলেন, ভোররাতে হঠাৎ শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। পরে জানতে পারেন, তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মমতাজ মজিদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই কারিনার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তদন্তের বিষয়।
এদিকে, কারিনার মামা গৌর দাস বলেন, তাঁর ভাগ্নির মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলে পরিবারের সন্দেহ রয়েছে। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।