
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ রাউজান কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী মা মগদ্ধেশ্বরী ও গঙ্গা মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধ্যাত্মিক আবহ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে গঙ্গা পূজা, মাতৃপূজা এবং মহাতীর্থ বারুণী স্নান উপলক্ষ্যে অষ্টপ্রহরব্যাপী সহনামযজ্ঞ। প্রতি বছরের ন্যায় চলতি বছরও মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা এক পবিত্র মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ভোর থেকেই শুরু হয় পূজা-অর্চনা, স্নানযজ্ঞ ও ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী ভক্তরা পবিত্র গঙ্গা পূজা ও মাতৃপূজায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি বারুণী স্নানের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করেন। অষ্টপ্রহরব্যাপী সহনামযজ্ঞে ভক্তরা নিরবচ্ছিন্নভাবে হরিনাম সংকীর্তনে অংশ নেন, যা পুরো পরিবেশকে ভক্তিময় ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ করে তোলে। ঢোল-করতাল, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তিমূলক সংগীতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা।
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের উদ্যোগে আগত ভক্তদের মাঝে শরবত বিতরণ ও ফ্রী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তীব্র গরমের মধ্যে এই শরবত বিতরণ কর্মসূচি ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি এনে দেয় এবং তাদের ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সুসংগঠিতভাবে শরবত বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভক্তরা আয়োজকদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতা অরূপ চক্রবর্তী বাবুল, যিনি বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি বিজয় কুমার তুরীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুধীজন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শুধু আধ্যাত্মিক চর্চাই নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তারা সার্বক্ষণিকভাবে ভক্তদের সহায়তায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক, অতিথি ও অংশগ্রহণকারী ভক্তরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, এ ধরনের উৎসব সমাজে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটি সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এবং আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট, রাউজান উপজেলা।