
ঝালকাঠি শহরের বিকনা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী এক সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধ ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অর্চনা দাস নামের এক গৃহিণী।
রোববার (১৫ মে) জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ঝালকাঠি জেলা শাখার হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্চনা দাসের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর মেয়ে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, অর্চনা দাসের স্বামী গোপাল চন্দ্র দাস পেশায় বাবুর্চি ও চায়ের দোকানদার। একমাত্র ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কষ্টার্জিত সঞ্চয় এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে তিনি বিকনা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় একটি জমি কেনেন। পরে সেখানে কাঠ ও টিন দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
তবে জমিটির রেকর্ড সংশোধনসংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সত্য সনাতন টিভি
অর্চনা দাস অভিযোগ করেন, বসতঘর নির্মাণের পর থেকেই পার্শ্ববর্তী একটি পরিবার তাঁকে উচ্ছেদের জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মুন্সী ও তাঁর সহযোগীরা গত বছরের ২ জুলাই তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে পরিকল্পিতভাবে ঘরে আগুন দেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
তিনি আরও বলেন, ঘরে আগুন দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন সময় তাঁকে হুমকি দিয়ে আইনের আশ্রয় না নিতে চাপ দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা এবং ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আবার কাঠের খুঁটি দিয়ে নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ করেন।
অর্চনা দাসের অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর বিবাহিত মেয়ে শম্পা দাস শ্বশুরবাড়ি থেকে আত্মীয়দের নিয়ে বাড়িতে বেড়াতে এলে হাবিব মুন্সীর উসকানিতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে গালাগাল ও মারধরের চেষ্টা করেন। সত্য সনাতন টিভি
এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে শম্পা দাস ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–১৭৪) করেছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্চনা দাস বলেন, থানায় জিডি করার পর প্রতিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে কলেজ মোড় এলাকায় মানববন্ধন করে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।