
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় শ্রী শ্রী গোপীনাথ বিগ্রহ মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মন্দিরের সেবায়েতরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের শ্রী শ্রী গোপীনাথ বিগ্রহ মন্দিরের স্বত্ব দখলীয় দেবোত্তর সম্পত্তি ভুলবশত সরকারের নামে ‘অর্পিত সম্পত্তি খ’ গেজেটভুক্ত হয়। পরে প্রতারণার মাধ্যমে হাসনাবানু নামের এক ব্যক্তি জমিটি বিআরএস রেকর্ডভুক্ত করেন বলে অভিযোগ করেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। ওই রেকর্ডের ভিত্তিতে আবুল হাসেম, তাঁর ছেলে মো. মাসুদ মিয়া, মাজাহারুল ইসলাম, এমদাদুল হক ও শহীদ মিয়া জমিটির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্দির পক্ষ জানায়, ভুল বিআরএস রেকর্ড বাতিল ও জমির স্বত্ব ঘোষণার জন্য নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও মামলা করা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সত্য সনাতন টিভি
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আবুল হাসেমের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মন্দিরের পুরোনো ইটের সীমানা প্রাচীর ও টিনের ঘরে হামলা চালায় এবং দখলের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে মন্দিরের আধিদার কোরবান আলীসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় বারহাট্টা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। সত্য সনাতন টিভি
এ ছাড়া গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে কয়েকজন ব্যক্তি দেবোত্তর সম্পত্তির কিছু বাঁশ কেটে নিয়ে যায় এবং অস্থায়ী ঘর ভাঙার প্রস্তুতি নেয় বলে অভিযোগ করেন সেবায়েতরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে এবং চলমান দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তাই দেবোত্তর সম্পত্তি ও সেবায়েতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা। সত্য সনাতন টিভি
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবুল হাসেম। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। যে জমি নিয়ে বিরোধ, সেটি মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি নয়। জমির কাগজপত্র আমাদের নামে রয়েছে। অভিযোগকারীরা যদি কাগজপত্রে প্রমাণ করতে পারেন যে এটি মন্দিরের সম্পত্তি, তাহলে আমরা জমি ছেড়ে দেব।”
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।