
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর সাবেক এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রী রাসবিহারী ধাম প্রাঙ্গণে আগামী ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫ মার্চ ২০২৬ (বুধবার) একদিনব্যাপী শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান শ্রীশ্রী জ্ঞান প্রদায়িনী গীতা সংঘ ও গীতাযজ্ঞ উদযাপন পরিষদ-২০২৬।
এই গীতাযজ্ঞের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে কারণ এটি পরম শ্রদ্ধেয় ১১৭তম আচার্যপাদ পরমহংসদেব শ্রীশ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজের পবিত্র আবির্ভাব তিথি স্মরণে আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী এবং ভক্তবৃন্দ মিলিত হয়ে দিনব্যাপী আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন।
অনুষ্ঠানসূচি ও প্রধান আয়োজন
অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় শ্রীশ্রী চণ্ডী পাঠ দিয়ে দিন শুরু হবে। সকাল ১০টায় শুরু হবে বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞের মূল আয়োজন, যেখানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সন্ন্যাসী ও ভক্তরা অংশগ্রহণ করবেন।
বিশেষ পৌরহিত্য করবেন আন্তর্জাতিক শঙ্কর মিশন, সীতাকুণ্ডের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ, এছাড়া অংশগ্রহণ করবেন:
শ্রীমৎ স্বামী মুক্তানন্দ গিরি মহারাজ
শ্রীমৎ স্বামী হরিকৃপানন্দ গিরি মহারাজ
শ্রীমৎ স্বামী উত্তমানন্দ গিরি মহারাজ
শ্রীমৎ স্বামী বিমলানন্দ গিরি মহারাজ
শ্রীমৎ রূপকানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ
শ্রীমৎ পুলকানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ
দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে দীক্ষাদান অনুষ্ঠান, যেখানে আগ্রহী ভক্তরা আধ্যাত্মিক দীক্ষা গ্রহণ করবেন। এরপর দুপুর ১টায় বিতরণ করা হবে মহাপ্রসাদ, এবং বিকাল ৫টায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে।
আয়োজক ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
আয়োজক কমিটির সভাপতি শ্রী আদিনাথ বিশ্বাস বলেন, “এই গীতাযজ্ঞের মাধ্যমে আমরা বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা প্রত্যেককে পরিবার-পরিজনসহ উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানাই।
অর্থ-সম্পাদক শ্রী বটল কান্তি দে যোগ করেন, “শাস্ত্রোক্ত বাণী ‘সহযজ্ঞাঃ প্রজাঃ সৃষ্টা পুরোবাচ প্রজাপতিঃ’ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এই আয়োজনে সকলের আধ্যাত্মিক চেতনা বৃদ্ধি পাবে এবং মানবকল্যাণে সহায়ক হবে।
এক ভক্ত জানিয়েছেন, “এ ধরনের গীতাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করে আমি শান্তি এবং আনন্দ অনুভব করি। পরিবারসহ আসা আমাদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ গীতাযজ্ঞের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া এটি ভক্তদের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা ও নৈতিকতাকে আরও প্রগাঢ় করবে।