
দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গলবার রঙে-আনন্দে ভরে উঠেছিল ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন। শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা ও ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি ঘিরে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিতে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ভক্ত সমবেত হন। আবিরের রঙে একে অপরকে রাঙিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তাঁরা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, কীর্তন আর মিলনমেলায় দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
এদিন বিকেলে শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফরিদপুর সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহম্মেদ তাবরীজ। তিনি উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দোলযাত্রার আনন্দ ভাগাভাগি করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানই এ দেশের ঐতিহ্য। আগামী দিনেও তাঁদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি এবং পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সত্য সনাতন টিভি
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক ড. নিকুঞ্জবন্ধু ব্রহ্মচারী, শ্রীঅঙ্গনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, হিন্দু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অমিত বিশ্বাসসহ স্থানীয় নেতারা।
ধর্মীয় কর্মসূচির সূচনা হয় ভোর পাঁচটায় মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে। সকাল আটটায় শৃঙ্গার আরতি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকেল দুইটায় শ্রীগীতাপাঠ এবং বিকেল চারটায় পদাবলী কীর্তনের আয়োজন করা হয়। পদাবলী কীর্তনে পরিবেশনা করেন ফরিদপুরের কীর্তনশিল্পী পলাশ সরকার। সন্ধ্যা সাতটায় অভিষেক এবং সাড়ে সাতটায় সন্ধ্যারতি কীর্তনের মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
দুপুরের পর থেকেই শ্রীঅঙ্গন প্রাঙ্গণে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সব বয়সী মানুষ আবিরের রঙে মেতে ওঠেন। কেউ বন্ধু-স্বজনকে রাঙিয়ে দিচ্ছেন, কেউ আবার দলবেঁধে কীর্তনে অংশ নিচ্ছেন। অনেকেই উৎসবের মুহূর্তগুলো স্মরণে রাখতে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সত্য সনাতন টিভি
উৎসবে অংশ নিতে আসা কয়েকজন ভক্ত বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও দোলযাত্রা ঘিরে শ্রীঅঙ্গনে মিলনমেলা বসেছে। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি ভক্তদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। আগামীতেও এ আয়োজন আরও বড় পরিসরে অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ লেখা পর্যন্ত শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনজুড়ে ছিল রঙিন আবিরের আবহ। কীর্তনের সুর আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো এলাকা। দোলযাত্রার এই আয়োজনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি সম্প্রীতির বার্তাই যেন প্রাধান্য পেয়েছে।