বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের অবসান: নোয়াখালীতে ভেঙে ফেলা হলো ৫০০ বছরের প্রাচীন সমাধি-মঠ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শরীয়তপুরে শুরু হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব পেকুয়ায় বন্যার্তদের দ্বিতীয় দফায় শুকনো খাবার বিতরণ আগামীকাল রথযাত্রা, ভক্তদের টানে পথে নামেন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা ফরিদপুরে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ইসকনের উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ‌মহোৎসব শুরু ১৬ জুলাই জয় শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা ক্ষেত্র মন্দির (গ্রুপ)’–এর উদ্যোগে রংপুরের পীরগঞ্জে মহতী শ্রীগীতা দান অনুষ্ঠান টিউশনির বকেয়া টাকা চাইতেই শিক্ষক সিঁথি সীমিতার ওপর নৃশংস হামলা এইচএসসি পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় আত্মহত্যা, রাজশাহীতে প্রাণ হারালেন দিশা রানী মহন্ত বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে প্রবীণের দুই আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগ: নরসিংদী পৌরসভায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন

সাতক্ষীরায় আমগাছ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু।

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় আমগাছের ডাল কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দমধুসূদনপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বিপ্লব ঘোষ (৩৬) ওই গ্রামের দুলাল ঘোষের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে গাছ কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের দৈনিক শ্রমের কাজ করতেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির পাশের একটি আমগাছের বড় ডাল কাটছিলেন বিপ্লব ঘোষ। গাছের বেশ উঁচুতে উঠে তিনি ডাল কাটার কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ ডালটি ভেঙে যায়। এতে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান। পরে ভেঙে পড়া ভারী ডালটি তাঁর শরীরের ওপর এসে পড়ে।

বিপ্লবের ভাই বিকাশ ঘোষ বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে ভাই গাছে উঠে বড় একটি ডাল কাটছিল। হঠাৎ ডালটা ভেঙে যায়। আগে ভাই মাটিতে পড়ে যায়, এরপর বিশাল ডালটা তার শরীরের ওপর পড়ে। আমরা দৌড়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি।

 

তিনি আরও বলেন, সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় এক পল্লীচিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত বিপ্লব ঘোষ দুই সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে সুদীপ্ত ঘোষ (১৬) স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট ছেলে প্রদীপ্ত ঘোষ (৮) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। স্ত্রী চম্পা ঘোষ (৩০) স্বামীর মরদেহের পাশে নির্বাক বসে ছিলেন। স্বজনদের আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

 

স্থানীয় সমাজকর্মী তাপস ঘোষ বলেন, বিপ্লব ছোটবেলায় পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন এবং স্কুলে ভালো ফল করতেন। তবে পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে মাধ্যমিকের পর তাঁর শিক্ষাজীবন থেমে যায়। পরে সংসারের হাল ধরতে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের কাজ বেছে নিতে হয় তাঁকে। “নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলত না। সব সময় বলত, ছেলেদের মানুষ করবে,” বলেন তিনি।

 

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, অভাবের কাছে হার মানা এক মেধাবী জীবনের এ করুণ পরিণতি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ভেঙে পড়ার গল্প। এখন প্রশ্ন এই অসহায় পরিবারটির পাশে কে দাঁড়াবে?

 

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া গাছে উঠে ডাল কাটার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ প্রায়ই করতে হয় শ্রমিকদের। সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে তাঁদের অভিমত।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews