
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি || অনলাইন সংস্করণ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির বকেয়া পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক স্কুলশিক্ষকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রীর মা ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। হামলায় শিক্ষকের মাথায় একাধিক গুরুতর আঘাত লাগে এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে ঘটে। অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম একই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। হামলার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিঁথি সীমিতা গত তিন মাস ধরে প্রিয়া বেগমের সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিনি টিউশনি করলেও সম্প্রতি বকেয়া টাকা চাইলে প্রিয়া বেগম ক্ষুব্ধ হন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো শিক্ষার্থীকে পড়ানো শেষে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় প্রিয়া বেগম দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ধারালো দা দিয়ে সিঁথির ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। দরজায় অতিরিক্ত ছিটকিনি লাগানো থাকায় তিনি বের হতে পারেননি এবং আত্মরক্ষারও সুযোগ পাননি।
হামলায় তার মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। সাতটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, সিঁথি সীমিতার মাথায় ১০টি গভীর কোপের আঘাত রয়েছে। সেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা জানান, প্রথম কোপের পর তিনি দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো থাকায় বের হতে পারেননি। তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় তার গলায়, হাতে ও কানে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। সে সময় অভিযুক্ত তাকে স্বর্ণালংকার খুলে দিতে বলেছিলেন।
মামলার বাদী শিশু মিয়া অভিযোগ করেন, এটি কেবল টিউশনির টাকা নিয়ে বিরোধের ঘটনা নয়; বরং স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। তার দাবি, অভিযুক্ত অতীতেও অনুরূপ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উপস্থাপন করে ঘটনার গুরুত্ব ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।