
নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দাশ || চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বহু পরিবার গৃহহীন, খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানবিক সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষিবিদ সৈকত পাল রিমু। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
জানা গেছে, মানবসেবা ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত আধ্যাত্মিক ও সেবাধর্মী সংগঠন ‘অদ্বৈত অচ্যুত মিশন’-এর একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে কৃষিবিদ সৈকত পাল রিমু এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাঁর উদ্যোগে চকরিয়া উপজেলার বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঈদমণি, জলদাশপাড়া, তরছঘাট ও বাটাখালীসহ বিভিন্ন প্লাবিত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিল। রান্নার উপকরণ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এমন অবস্থায় কৃষিবিদ সৈকত পাল রিমুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রম বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে। ত্রাণ গ্রহণের সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে এই মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বৈষম্যের সৃষ্টি না হয়। পুরো কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন। তাঁরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
এ বিষয়ে কৃষিবিদ সৈকত পাল রিমু বলেন, “মানবসেবা আমার কাছে শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি এক ধরনের নৈতিক ও আত্মিক অঙ্গীকার। পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপা, গুরু পরম্পরার আশীর্বাদ এবং পরম আরাধ্য গুরুদেব শ্রীমৎ স্বামী দেবদীপানন্দ পূরী মহারাজের অনুপ্রেরণায় ‘অদ্বৈত অচ্যুত মিশন’-এর একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমি বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষুদ্র সুযোগ পেয়েছি। মানুষের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব হবে। মানবিক কাজের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।”
ত্রাণ সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, বন্যার কারণে তাদের ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে চরম কষ্টে ছিলেন। এমন সময়ে এই ত্রাণ সহায়তা তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা কৃষিবিদ সৈকত পাল রিমুর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, দুর্যোগের সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম সমাজে সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের এমন উদ্যোগ দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং অসহায় মানুষের মধ্যে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও আশা জাগিয়ে তোলে।
মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সেবার আদর্শকে সামনে রেখে কৃষিবিদ সৈকত পাল রিমুর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে তাঁর এই নিঃস্বার্থ সহায়তা ভবিষ্যতেও সমাজের অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।