
নিজস্ব প্রতিবেদক: সত্য সনাতন টিভি || অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় মানসিক হতাশা থেকে দিশা রানী মহন্ত (২০) নামে এক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের গুনাজিপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত দিশা রানী মহন্ত ওই গ্রামের দ্বিজেন্দ্রনাথ মহন্তের মেয়ে। তিনি পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ কক্ষের আড়ার সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন দিশা। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা প্রশান্ত কুমারের ভাষ্য, গত বছর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই দিশা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এ বছর নতুন করে পরীক্ষায় অংশ নিলেও প্রত্যাশিতভাবে পরীক্ষা দিতে না পারায় তিনি গভীর হতাশা ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, সেই হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
পরীক্ষার ফলাফল বা শিক্ষাজীবনের সাময়িক ব্যর্থতা কখনোই জীবনের শেষ কথা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের আন্তরিক মানসিক সহায়তা শিক্ষার্থীদের হতাশা কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।