বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে গোসলের সময় নিখোঁজ চিকিৎসক শরীর নয়, ইচ্ছাশক্তিই বড়-পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় কলি রানী এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে ছাদ থেকে পড়ে হিন্দু পরীক্ষার্থীর মৃত্যু ভারতের সেই গ্রাম, যেখানে আজও দৈনন্দিন জীবনের ভাষা সংস্কৃত ফরিদপুরের মধুখালীতে শিপন বিশ্বাসের সঙ্গীত জীবনের অদম্য লড়াই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে চট্টগ্রামে দাশ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী মা বুড়াকালীর বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন রাতে নিখোঁজ,ভোরে মাছের ঘেরের সামনে মিলল হিন্দু যুবকের লাশ আনোয়ারায় গৃহবধূ উদ্ধার: পারিবারিক সমঝোতায় ফিরে গেলেন স্বামীর কাছে উখিয়ায় বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির নতুন উপজেলা সংসদ গঠন বিয়ের আশ্বাসে সম্পর্ক, পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতির অভিযোগে কৃষক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের মধুখালীতে শিপন বিশ্বাসের সঙ্গীত জীবনের অদম্য লড়াই

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদন : অংকন দে || ফরিদপুর প্রতিনিধি

 

ফরিদপুরের মধুখালীর গর্ব শিপন বিশ্বাসের সঙ্গীত জীবনের অদম্য লড়াই। সঙ্গীত কেবল শব্দের মালা নয়, এটি হলো এক শিল্পীর অস্তিত্বের প্রকাশ। ফরিদপুর মধুখালীর কৃতি সন্তান, প্রতিভাবান মিউজিক কম্পোজার শিপন বিশ্বাস-এর গল্পটি ঠিক এমনই।

 

অনেকের কাছে তিনি প্রিয় ‘শিপন জেআর’ নামে পরিচিত—যে নামটি বয়োজ্যেষ্ঠ গুণীজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া এক আশীর্বাদ, যা তার প্রতি তাদের গভীর স্নেহ ও ভালোবাসার প্রতীক।

 

শিপন বিশ্বাসের এই পথচলায় তার সবচেয়ে বড় শক্তি তার পরিবার। মা-বাবা এবং দাদার অকুন্ঠ সমর্থন তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস জুগিয়েছে। তার গানের গীতিকবিতার মূল কারিগর স্বয়ং তার দাদা। শুধু শব্দেই নয়, শিপনের গানের প্রতিটি ভিডিওকে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের রূপ দিতে তার দাদা একজন সিনেমাটিক ভিডিওগ্রাফার ও ভিডিও ডিরেক্টর হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি গানের দৃশ্যপট তৈরি থেকে শুরু করে ভিডিওর চূড়ান্ত রূপদান পর্যন্ত—সবকিছুই তার দাদার শৈল্পিক পরিচালনায় প্রাণ পায়। দাদার এই নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতা শিপনের গানকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা। এই পারিবারিক মেলবন্ধনই শিপনের সৃজনশীলতার মূল প্রাণশক্তি।

 

শিপন বিশ্বাস বলেন, “আমার গুরুজি, মধুখালীর শ্রদ্ধেয় শ্রী শ্যামল ভৌমিক-এর প্রতি আমার শত কোটি প্রণাম ও ভালোবাসা। তিনিই আমার সুরের জগতকে আলোকোজ্জ্বল করেছেন।” এই কৃতজ্ঞতা কেবল গুরুর প্রতিই নয়, তার মিউজিক জীবনের সঙ্গী অরবিন্দ মন্ডল এবং বিশ্বজিৎ বিশ্বাসসহ তার সকল মিউজিক্যাল বন্ধুদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞ। তাদের অকৃত্রিম সহযোগিতা ছাড়া এই যাত্রা অনেক কঠিন হতো।

 

মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমাবদ্ধতা আর অভাব-অনটনের সাথে লড়াই করে তিনি আজ নিজের স্টুডিও গড়ে তুলেছেন। টাকা জমিয়ে, কষ্ট করে শিখেছেন মিউজিক পরিচালনা। একসময়ের প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের সেই স্বপ্ন আজ রূপান্তরিত হয়েছে সুরের এক অনন্য জগতে, যেখানে তিনি তার সৃষ্টি দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চান।

 

শিপন বিশ্বাস বিনয়ের সাথে বলেন, “আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়তো এখনো খুব বেশি পরিচিতি পাইনি, কিন্তু আমি আমার আবেগের জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি কেবল আপনাদের ভালোবাসা পেতে চাই। মধুখালীবাসীসহ দেশবাসীর আশীর্বাদই আমার আগামীর পথচলার মূল শক্তি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারি।”

 

আজ শিপন বিশ্বাস নিজেই গান লেখেন, নিজেই সুর করেন এবং কম্পোজিশন করেন। তার গানে একদিকে যেমন থাকে আধুনিকতার ছোঁয়া, অন্যদিকে ফুটে ওঠে জীবনের বাস্তব গল্প। আগামী দিনগুলোতে তিনি তার স্টুডিওর মাধ্যমে আরও নতুন নতুন সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দিতে চান। মধুখালীর এই মাটির সন্তান, যিনি সব প্রতিকূলতাকে জয় করে সুরে ঠাঁই নিয়েছেন, তার যাত্রা হোক আরও আলোকিত। শিপন বিশ্বাসের এই অদম্য যাত্রাপথে মধুখালীবাসী সবাই তার সাফল্যের জয়গান করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews