রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পটিয়ায় শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬তম আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে বিশ্বশান্তি গীতা পুষ্পযজ্ঞ ব্রেন স্ট্রোকে শয্যাশায়ী বিরণ আচার্য্য, চিকিৎসায় প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা মীরসরাইয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারে হামলা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও হরিনামে মুখর রাঙ্গুনিয়া, ভক্তির আবেশে শেষ হলো ঝুলনযাত্রা বাগেরহাটে, রামপালে সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিদ্যাপীঠের উদ্বোধন ভাবগাম্ভীর্য ও সনাতনী ঐতিহ্যে সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরুমহারাজের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উদযাপন সনাতন ধর্ম অবমাননা,বুটেক্সের শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার নিখোঁজের দুই দিন পর চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসসহ ৪ জন

নারায়ণগঞ্জের দলিত হরিজন সম্প্রদায় থেকে উঠে এসে জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মান অর্জন

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদন : সত্য সনাতন টিভি || অনলাইন সংস্করণ 

 

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন নারী হয়েও থেমে থাকেননি সনু রানী দাস। দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, অবহেলা আর প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প।

 

নারায়ণগঞ্জের ঋষিপাড়া বা দলিত বসতির সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা সনু রানী দাস ছোটবেলা থেকেই নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন। সমাজের প্রচলিত বৈষম্য, আর্থিক সংকট এবং সুযোগের অভাব তার জীবনকে বারবার কঠিন করে তুললেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিটি বাধাকেই তিনি পরিণত করেছেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তিতে।

 

জীবনের প্রতিটি ধাপে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। বাল্যবিবাহের চাপ, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক অবহেলার মধ্য দিয়েও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, জন্ম বা সামাজিক পরিচয় নয়, মানুষের সাফল্য নির্ধারণ করে তার কর্ম ও যোগ্যতা।

 

বর্তমানে সনু রানী দাস অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। নিজের উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন সমাজের পিছিয়ে পড়া নারী ও দলিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের জন্য। বিশেষ করে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

 

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সনু রানী দাস বলেন, “আমি চাই আমার মতো কোনো মেয়েকে যেন শুধু জন্মপরিচয়ের কারণে পিছিয়ে থাকতে না হয়। প্রত্যেক নারীর মধ্যেই সম্ভাবনা রয়েছে। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জয়িতা সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।”

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ‘অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হন সনু রানী দাস। তার এই অর্জনকে দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

স্থানীয় সমাজকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, সনুর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সুযোগ ও সহায়তা পেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীরাও সমাজের মূলধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তার অর্জন নতুন প্রজন্মের মেয়েদের জন্য আত্মবিশ্বাস ও সাহসের বার্তা বহন করছে।

 

সনু রানী দাসের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প শুধু একজন নারীর বিজয়ের কাহিনি নয়; এটি বাংলাদেশের হাজারো প্রান্তিক নারীর স্বপ্ন দেখার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক। তার এই অর্জন সমাজে সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়নের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews