
নিজস্ব প্রতিবেদক : পূর্ণিমা হালদার | অনলাইন সংস্করণ
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান সার্বজনীন ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা পালিত হবে আগামীকাল । এদিন ভগবান জগন্নাথ, বড় ভাই বলভদ্র ও বোন সুভদ্রাকে সুসজ্জিত তিনটি পৃথক রথে করে মন্দির থেকে বের করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে গুন্ডিচা মন্দিরে নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মন্দিরভিত্তিক নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কীর্তন, পূজা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরে একবার ভগবান জগন্নাথ ভক্তদের দর্শন দিতে মন্দির থেকে বের হয়ে নগর পরিক্রমায় অংশ নেন। এই যাত্রাকে ভক্তদের কাছে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। রথের দড়ি টানতে রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে অংশ নেন, যা সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
রথযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রার বৃন্দাবন দর্শনের ধর্মীয় কাহিনি। সেই স্মরণেই প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ২০২৬ সালে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৬ জুলাই, আর উল্টো রথযাত্রা হবে ২৪ জুলাই। সত্য সনাতন টিভি
পুরীর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় তিনটি রথের আলাদা নাম ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জগন্নাথের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং সুভদ্রার দর্পদলন নামে পরিচিত রথগুলো প্রতি বছর নতুন কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়।
বাংলাদেশেও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, ধামরাই, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে শোভাযাত্রা, পূজা, নামসংকীর্তন ও মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসকনের বিভিন্ন মন্দিরে উৎসবটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তিভরে ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি দিতে দিতে রথের দড়ি টানলে পুণ্য লাভ হয় এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।