
নিস্রাব প্রতিবেদন: জয় দাশ : চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়ায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় অকাল প্রয়াণ ঘটেছে পিসতুতো ও মামাতো দুই ভাইয়ের। নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারান প্রদীপ দাশ (৩৮) ও সমীরণ দাশ (৩২)। শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে সংঘটিত এ মর্মস্পর্শী ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রয়াত প্রদীপ দাশ নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামের বাসিন্দা এবং সমীরণ দাশ বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখিল গ্রামের অধিবাসী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারা সম্পর্কে মামাতো ও পিসতুতো ভাই। দুর্ঘটনাটি ঘটে প্রদীপ দাশের শ্বশুরালয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে শাটারিংয়ের কাজ চলছিল। এ সময় এক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান প্রদীপ দাশ। তিনি ওই শ্রমিককে নিরাপদে উপরে তুলতে সক্ষম হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজে ট্যাংকের ভেতরে অচেতন হয়ে পড়েন।
এ দৃশ্য দেখে তাঁর আত্মীয় সমীরণ দাশ দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তিনি প্রদীপকে উপরে তুলতে সক্ষম হলেও পরে নিজেও ট্যাংকের ভেতরে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসরোধ হয়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
ঘটনার পর দুই পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, প্রদীপ ও সমীরণ ছিলেন পরোপকারী, সদালাপী ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই তাদের উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কিন্তু সেই মহান মানবিকতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের শেষ অধ্যায়ে পরিণত হয়।
এ ঘটনায় রাউজানসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয় সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা প্রয়াত দুই ভাইয়ের বিদেহী আত্মার সদ্গতি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, সেপটিক ট্যাংক, পানির রিজার্ভার বা অন্যান্য আবদ্ধ স্থানে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা যেকোনো সময় আরও মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।