
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় সংসদে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, বহুত্ববাদ ও সুফিবাদী ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বক্তব্য রেখেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, হিন্দুরা তাদের মন্দিরে মূর্তি নির্মাণ করবে এবং মুসলমানরা মসজিদ নির্মাণ করবে—এতে আপত্তির কোনো কারণ থাকতে পারে না। বরং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী উপাসনা করার স্বাধীনতাই বাংলাদেশের সৌন্দর্য।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, অলি-আউলিয়াদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে যে সহনশীলতা ও সুফিবাদের ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা বর্তমানে এক শ্রেণির উগ্রপন্থার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সুফিবাদ অনুসারীদের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক।
সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে দেশত্যাগের হুমকির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের ধর্মীয় অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সরকার যদি মন্দির বা মূর্তি নির্মাণের বিষয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তবে তা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্পষ্ট করা উচিত। অন্যথায় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সুফি সাধকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.), হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহ পরান (রহ.) ও খান জাহান আলীর মতো অলি-আউলিয়ারা সম্প্রীতি, মানবতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে মাজারকেন্দ্রিক সংস্কৃতির ওপর হামলা এবং পীর-মাশায়েখদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা সেই ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, কেউ মাজারে যাবেন কি যাবেন না, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মত অনুসরণ করবেন কি না তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। তবে অন্যের বিশ্বাস, উপাসনালয় বা ধর্মীয় স্থাপনার ওপর আঘাত করার অধিকার কারও নেই।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।