
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে দেখা দিয়েছে জটিলতা, যার কারণে মরদেহ সৎকার নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা।
মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার, যিনি সোহাগ নামেও পরিচিত। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘড়িয়া গ্রামে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে দত্তডাঙ্গা এলাকার একটি আশ্রমে অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক আগে তিনি আদালতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মুসলিম পরিচয়ে জীবনযাপন করছিলেন। তিনি দুইবার বিয়ে করেন, যার মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
তবে মৃত্যুর পরই শুরু হয় বিরোধ। মৃতের মা দাবি করেন, তার ছেলে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এ তথ্য তিনি আগে জানতেন না। অন্যদিকে, স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী দাফন দাবি করেন।
এদিকে, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ মরদেহটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেখানে স্ত্রী উপস্থিত হয়ে দাফনের দাবি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সৎকার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। সত্য সনাতন টিভি
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রমজানুল হক জানান, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে ধর্মীয় পরিচয় ও সৎকার পদ্ধতি নিয়ে এই বিরোধ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।