শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দামপাড়ায় মহাশক্তির মহাআহ্বান, মা বুড়াকালীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা উৎসবে ভক্তদের আমন্ত্রণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেন হরিজন সম্প্রদায়ের নন্দিনী বাঁসফোর গুঞ্জন ‘হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি নারায়ণগঞ্জের দলিত হরিজন সম্প্রদায় থেকে উঠে এসে জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মান অর্জন চট্টগ্রামে শ্মশান কালী মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের টাকা লুট ওসির দাপটে দিশেহারা সংখ্যালঘু পরিবার আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন পাহাড়ে অভিযান: অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজন পুলিশের কাছে সোপর্দ ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিদ্ধিরগঞ্জ শ্মশানের পক্ষে আদালতের রায়, উন্নয়নকাজে আর বাধা নেই মাহিলারা সরকার মঠ: ইতিহাস, স্থাপত্য ও লোকবিশ্বাসের অনন্য সাক্ষী

দামপাড়ায় মহাশক্তির মহাআহ্বান, মা বুড়াকালীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা উৎসবে ভক্তদের আমন্ত্রণ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদন  : জয় দাশ || চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ভক্তি, বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা এবং সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা এলাকার দামপাড়া মসজিদগলিস্থ শ্রীশ্রী বুড়াকালী মন্দির প্রাঙ্গণ। বহু প্রতীক্ষিত মা বুড়াকালীর নতুন বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে আগামী ২৮ ও ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় মহোৎসব। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

মন্দির কর্তৃপক্ষ ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রানুসারে বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র একটি ধর্মীয় আচার। এর মাধ্যমে দেবীর চৈতন্যশক্তিকে বিগ্রহে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান ও প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে এই আয়োজন শুধু একটি পূজা অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি ভক্তদের কাছে এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি ও ধর্মীয় সাধনার উপলক্ষ।

 

প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ জুন বিকেল ৪টায় মা বুড়াকালীর শুভ আগমন ও বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এ উপলক্ষে নগরীর ঐতিহ্যবাহী গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালীবাড়ি থেকে দামপাড়া মসজিদগলি পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন বিভিন্ন বয়সী ভক্তবৃন্দ, ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ।

 

শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঢাকের বাদ্য এবং হরিনাম সংকীর্তনের সুরে মুখরিত হয়ে উঠবে পুরো এলাকা। ধর্মীয় আবহে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা ভক্তদের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

 

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে কীর্তন, আরতি, সাহস ঢাকি, সাদাম ঢাকি এবং বিভিন্ন শাস্ত্রসম্মত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যার পর বিশেষ মঙ্গল প্রার্থনা এবং ভক্তিমূলক ধর্মীয় পরিবেশনারও আয়োজন রাখা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন, ২৯ জুন সকালে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। এদিন মা বুড়াকালীর পূজা, বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা, মহাযজ্ঞ এবং বিশেষ পূজার্চনা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া এসব আচার-অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশবরেণ্য পুরোহিত ও পণ্ডিতবৃন্দ।

 

অনুষ্ঠানের পৌরোহিত্য করবেন পুরোহিত নয়ন চক্রবর্তী। এছাড়া ধর্মীয় আচার সম্পাদনায় অংশ নেবেন পণ্ডিত শ্রী সুকান্ত চক্রবর্তী (ভোলা), শ্রী সাগর চক্রবর্তী, শ্রী বাপ্পা চক্রবর্তী, শ্রী অরূপ চক্রবর্তী বাবুল, শ্রী শান্ত চক্রবর্তী এবং শ্রী নিরব ভট্টাচার্য (সাগর)। তাঁদের তত্ত্বাবধানে বৈদিক নিয়মনীতি অনুসরণ করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও পূজার্চনার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

 

আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে সকলের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

 

মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, মা বুড়াকালীর এই প্রাণ প্রতিষ্ঠা মহোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি ভক্তদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করারও একটি মহৎ উদ্যোগ। তাই অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মন্দির প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়, পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

 

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী এবং ধর্মপ্রাণ মানুষকে যথাসময়ে উপস্থিত থেকে এই পবিত্র ধর্মীয় মহোৎসবের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

তাদের প্রত্যাশা, মা বুড়াকালীর আশীর্বাদে এই মহোৎসব ভক্তদের জীবনে বয়ে আনবে শান্তি, কল্যাণ ও মঙ্গল; আর দামপাড়ার এই ঐতিহাসিক আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে চট্টগ্রামের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews