
নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌরভ সাহা || রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রাসবিহারী ধাম-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি এবং প্রখ্যাত দানবীর প্রয়াত রাখাল দাশগুপ্ত-এর পুণ্যস্মরণে এক ভাবগম্ভীর শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাসবিহারী ধাম পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে ধাম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ শোকসভায় ভক্তবৃন্দ, সুধীজন, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সনাতনী সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ নির্মল কান্তি চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত রাখাল দাশগুপ্তের সহধর্মিণী পারুল দাশগুপ্ত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৎসঙ্গ বাংলাদেশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার কার্যকরী সভাপতি সঞ্জীব সুশীল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক অসীম শীল, অসীম দত্ত, কানু দাশগুপ্ত, বিকাশ কর, গোপাল চৌধুরী, বাবুল বিশ্বাস, রমেন্দ্র লাল দে, টিটু সেন, সেবুব্রত রায় চৌধুরী এবং ত্রিদিপ সাহা। এছাড়াও রাসবিহারী ধাম পরিচালনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অসংখ্য ভক্ত উপস্থিত থেকে প্রয়াতের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, রাখাল দাশগুপ্ত ছিলেন সনাতন ধর্মের একজন নিবেদিতপ্রাণ সেবক, ধর্মানুরাগী সমাজসংগঠক এবং বিরল দানবীর। মঠ-মন্দির প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার এবং সনাতনী জাগরণে তাঁর অসামান্য অবদান আজও মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের সহায়তা, দুর্যোগকবলিত মানুষের সেবায় এগিয়ে আসা এবং জনকল্যাণে অকাতরে দান করার মাধ্যমে তিনি মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর মহানুভবতা, উদারতা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে সর্বমহলে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
আলোচকরা উল্লেখ করেন, একজন সফল শিল্পপতি হওয়া সত্ত্বেও রাখাল দাশগুপ্ত ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নিরহংকার ও সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত। ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে সমাজ, ধর্ম ও মানুষের কল্যাণকেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। তাঁর আদর্শ, ত্যাগ, মানবপ্রেম ও সেবাময় জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রয়াত রাখাল দাশগুপ্তের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত কয়েক শতাধিক ভক্তের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।