
নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দাশ || চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
পবিত্র শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এবার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট, বাঁশখালী উপজেলা শাখা। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকেই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাঁশখালীর বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেন।
সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরবাড়ি, গৃহস্থালি সামগ্রী ও জীবিকার নানা উপকরণ হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট, বাঁশখালী উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ দুর্গত মানুষের পাশে উপস্থিত হয়ে তাদের সাহস ও মানসিক শক্তি জোগানোর পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সংগঠনের নেতারা বলেন, মানবসেবা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের অন্যতম আদর্শ। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের মধ্যেই সংগঠনের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়; বরং যে কোনো দুর্যোগ, সংকট কিংবা মানবিক বিপর্যয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরপরই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই মানবিক কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন শ্রীশ্রী অমৃতধাম (গুপ্ত বৃন্দাবন), কালীপুর, বাঁশখালীর সম্মানিত অর্থ সম্পাদক শ্রী সান্টু দাশ (রাহুল), বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট, বাঁশখালী উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা শ্রী সাগর দাশ, সভাপতি শ্রী মিশু দাশ (আদিত্য), নির্বাহী সভাপতি শ্রী আকাশ কান্তি নমঃ, অর্থ সম্পাদক শ্রী সৈকত দাশ, প্রচার সম্পাদক শ্রী মানিক দে, সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক শ্রী ঈশান ধর (অন্তর) এবং সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বন্যাদুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে নেতৃবৃন্দ তাদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং সংকট মোকাবিলায় সাহস ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা জানান, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়েও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য সংগঠনটি বিভিন্ন ধরনের মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং সমাজের বিত্তবান ও সেবাপরায়ণ ব্যক্তিদেরও দুর্গত মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ সময় বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে এসে খোঁজখবর নেওয়া এবং সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের মানসিক শক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট, বাঁশখালী উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের অন্যতম শিক্ষা হলো মানবসেবা। তাই সমাজের প্রতিটি দুর্যোগ ও সংকটময় মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবকল্যাণে কাজ করাই সংগঠনের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক সকল কার্যক্রমে সংগঠনটি একই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।
রথযাত্রার পবিত্র আবহে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিকতার যে বার্তা বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট বহন করে চলেছে, বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।