
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম থেকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় নন্দিতা রায় নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে গাজীরহাট হাজী নঈম উদ্দিন মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা বাড়িতে চলে যান। তবে বিদ্যালয়ের অন্য একটি ভবনে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় কয়েকজন শ্রমিক সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছিলেন।
কাজ শেষে শ্রমিকরা গোসল করতে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের বাথরুমের কাছাকাছি পৌঁছালে ভেতর থেকে কান্না ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান। একই সঙ্গে দরজায় আঘাত করার শব্দও শোনা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা হাতুড়ি দিয়ে বাথরুমের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এ সময় তারা নন্দিতা রায়কে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বিদ্যালয়ের সামনের স্থানীয় চিকিৎসক ডা. মফিজুর রহমান শাফিনের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসক জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে নন্দিতাকে তার চেম্বারে আনা হয়। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে নন্দিতার বাবা-মা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তথ্যে নন্দিতার মা শিমুল রায় জানান, বিদ্যালয়ের ছুটি হয় দুপুর ২টার দিকে। ছুটির পর নন্দিতা বাথরুমে গেলে পেছন থেকে কেউ তার মাথায় আঘাত করে বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে দেওয়া হয় এবং শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও করেছেন নন্দিতার মা।
উদ্ধারের সময় নন্দিতা শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নন্দিতা গাজীরহাট ইউনিয়নের ডোমরা গ্রামের মুক্তি বিশ্বাসের মেয়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কীভাবে বিদ্যালয়ের বাথরুমের ভেতরে হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়েছিল এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা