শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাই হারানোর শোক, এবার অকালে ঝরে গেল সপ্তম রায় প্রিয়মের প্রাণ বোনকে ভালো পাত্রে বিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল সপ্তমের, সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল জীবন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সম্মেলন প্রস্তুতি উপ-কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রথম সভা অনুষ্ঠিত তবলার তালে, সাংবাদিকতার কলমে-এবার মাস্টার্সেও সাফল্য অর্ণব মল্লিকের মুক্তির আগেই বাণিজ্যিক সাফল্যের ইঙ্গিত, ‘রামায়ণ’-এর সংগীতস্বত্ব বিক্রি প্রায় ৮০ কোটি রুপিতে ব্রিটিশ জাদুঘর থেকে বাগদেবীর মূর্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে ভারত বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র পরিষদ পাহাড়তলী থানার অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত: কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন প্রেম দাশ অক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বপ্ন পূরণ, হারমোনিয়াম পেল ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকীতে বাংলাদেশ মন্দির কমিটি, নাটোর জেলা শাখার শ্রদ্ধাঞ্জলি মন্দিরে বিবাহ সম্পূর্ণ করলেন গীতাপাঠক মিশন দত্ত

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাই হারানোর শোক, এবার অকালে ঝরে গেল সপ্তম রায় প্রিয়মের প্রাণ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ

 

সিলেটের ওসমানীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের মধ্যে রয়েছেন সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকার তরুণ সপ্তম রায় প্রিয়ম (২২)। পরিবারের আর্থিক সংকট সামাল দিতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল ছোট বোন বৈশাখীর পড়াশোনা শেষ করিয়ে ভালো পাত্রের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সপ্তম।

 

সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকার বাসিন্দা উত্তম রায় ও শোভা রায়ের ছেলে। টানাপোড়েনের সংসারে বাবা-মাকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

 

পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তমের বড় ভাই প্রিতম রায় প্রায় ১২ বছর আগে মাত্র ১১ বছর বয়সে সুরমা নদীতে ডুবে মারা যান। শহরের নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা সপ্তমের মেসো (খালু) মুহিত রায় জানান, মহল্লার পাশের সরকারি জুবিলী মাঠে বল খেলার সময় বল নদীতে পড়ে যায়। সেই বল তুলতে গিয়ে স্রোতের টানে নদীতে ভেসে যান প্রিতম। পরে নদীর অনেক দূর ভাটিতে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

 

এক সন্তান হারানোর সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার আরেক সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা শোভা রায়। স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, দুই ছেলেকে হারানোর এই শোক পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।

 

হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানান, উত্তম রায়, তাঁর স্ত্রী শোভা রায়, দুই ছেলে প্রিতম ও সপ্তম এবং মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে একসময় তাঁদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। সীমিত আয়ের মধ্যে কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলে প্রিতম নদীতে ডুবে মারা যাওয়ার পর থেকেই শোকের ভারে কাতর ছিলেন মা শোভা।

 

পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা আরও বেড়ে গেলে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ শুরু করেন সপ্তম। সিলেটের মহাজনপট্টির একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি নিয়ে সংসারের দায়িত্বে বাবা-মাকে সহযোগিতা করতেন তিনি। পরে বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন সপ্তম।

 

স্বজনরা জানান, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও সপ্তম তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। ছোট বোন বৈশাখীকে পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা এবং পরে ভালো একটি পরিবারে তাঁর বিয়ে দেওয়া এটাই ছিল সপ্তমের অন্যতম বড় স্বপ্ন। পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই নিজের ভবিষ্যতের পাশাপাশি বোনের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতেন তিনি।

 

সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিরাট গ্রামে ছিল। বর্তমানে তাঁর পরিবার সিলেট শহরের সোবহানীঘাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।

 

এদিকে শুক্রবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি নাইট স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলসহ দুর্ঘটনার পর মোট নয়জন যাত্রী নিহত হন।

 

সপ্তম রায় প্রিয়মের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে তরুণ নিজের পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে, অসুস্থ বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে এবং ছোট বোনের ভবিষ্যৎ গড়তে স্বপ্ন দেখছিলেন, সেই স্বপ্নগুলো এখন অপূর্ণই রয়ে গেল।

 

সপ্তমের স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছে তাঁর অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল তরুণের আকস্মিক চলে যাওয়ার গভীর বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews