সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নয়ন সাধু হত্যা মামলার সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে ‘মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি লাভ জিহাদ: ধর্মের বিভাজন নয়, প্রতারণা ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরোধ লোহাগাড়ায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সনাতনী ঐক্যের আহ্বানে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলন অভাব-সংগ্রাম থামাতে পারেনি তমালকে, শেষ পর্যন্ত অর্জন করলেন মাস্টার্স ডিগ্রি খুরুশকুলে নয়ন সাধু হত্যা,ছয় মাস পর আসামি গ্রেপ্তার টিউশনের টাকা জমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, বাঁশখালীর উচ্ছাসের স্বপ্নপূরণ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাই হারানোর শোক, এবার অকালে ঝরে গেল সপ্তম রায় প্রিয়মের প্রাণ বোনকে ভালো পাত্রে বিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল সপ্তমের, সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল জীবন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সম্মেলন প্রস্তুতি উপ-কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

নয়ন সাধু হত্যা মামলার সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে ‘মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সমীর রুদ্র | কক্সবাজার প্রতিনিধি

 

কক্সবাজারের খুরুশকুলে সন্ন্যাসী নয়ন সাধু হত্যা মামলার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও আসামি গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর সাংবাদিক অন্তর দে বিশালকে প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদ ও ফটোকার্ড সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

অন্তর দে বিশাল দৈনিক সংবাদ সারাবেলার কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম কক্সবাজার জাগো নিউজ-সিজেএনের (সিজেএন) বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সাংবাদিক অন্তরের অভিযোগ, গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে ০১৩৪৭-১৪৮৭০৮ নম্বর থেকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় সিজেএনে প্রকাশিত নয়ন সাধু হত্যা মামলার একটি সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়।

 

অন্তর দে বিশালের ভাষ্য, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সংবাদটি সরিয়ে না নিলে তাঁকে হত্যা মামলায় আসামি করার হুমকিও দেওয়া হয়।

 

নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে সিজেএনের একটি দল মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল বলে জানান অন্তর। ধারাবাহিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর হত্যা মামলার আসামি আবদুর রহিম ওরফে ‘একপিচ্চা’কে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

 

আসামি গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে সিজেএনে লাইভ ও সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরে ওই সংবাদের ভিত্তিতে একটি ফটোকার্ড অনলাইন পেজে প্রকাশ করা হলে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে ফোন করে সেটিও সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক অন্তর।

 

তিনি বলেন, “ফোনদাতার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পরিচয় না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নিউজ ডিলেট না করলে বা এ বিষয়ে আর কথা বললে হত্যা মামলায় আসামি করার হুমকি দেওয়া হয়।”

 

অন্তর দে বিশালের অভিযোগ, প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ প্রকাশের কারণে হুমকি দিয়ে তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

 

 

হুমকির ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েও জটিলতার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক অন্তর। তাঁর দাবি, প্রথমে তিন দফায় তাঁর জিডি গ্রহণ করা হয়নি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতার পর রাতে জিডি নেওয়া হয়।

 

জিডি গ্রহণের বিষয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বললে তাঁকে জিডি করার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন অন্তর। তবে হুমকিদাতার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিলে বিষয়টি জানানো হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়।

 

অন্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর +৯৬০৭৩৮৮৪০৮ নম্বর থেকে আবারও হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ তাঁর। ওই কথোপকথনের অডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপও চেয়েছেন তিনি।

 

এদিকে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া এবং প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগে কক্সবাজারের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে। হুমকির কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

সাংবাদিক নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে হুমকিদাতাকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাংবাদিক অন্তর দে বিশালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews