
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সীতাঘাট মন্দিরের চলমান উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখতে কাপ্তাই বন বিভাগের কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মন্দিরের চলমান উন্নয়নকাজ হঠাৎ বন্ধ রাখার নির্দেশের ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটির বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চললেও এত বছর তা নিয়ে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। তাহলে বর্তমানে চলমান উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হচ্ছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের ভাষ্য, সীতাঘাট মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হিসেবে পরিচিত। মন্দিরের উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রয়োজনের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে মন্দিরটির উন্নয়নকাজ হয়ে এলেও বর্তমানে সেই কাজ বন্ধের নির্দেশকে তারা উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন।
তাদের দাবি, যদি মন্দিরের উন্নয়নকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক, আইনগত বা বন বিভাগের বিধিবিধানসংক্রান্ত জটিলতা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে মন্দিরের ধর্মীয় কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এদিকে, হঠাৎ করে উন্নয়নকাজ বন্ধের নির্দেশের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এ নিয়ে আরও অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কাপ্তাইয়ের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সীতাঘাট মন্দিরের উন্নয়নকাজ বন্ধের নির্দেশের কারণ খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে উন্নয়নকাজ বন্ধের নির্দেশের বিষয়ে কাপ্তাই বন বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত ও আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে এবং সীতাঘাট মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ, ঐতিহ্য ও উন্নয়নকাজ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।