
কলমে: সুজিত ঘোষ,লেখক, কলামিস্ট, কবি ও সংগঠক
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি গভীর ধর্মীয় তাৎপর্যে পূর্ণ। এই পবিত্র তিথিতেই আবির্ভাব ঘটেছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের যিনি হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে পূজিত। তাই জন্মাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, সংগীত, শিল্প, লোকাচার ও সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব।
হাজার হাজার বছর পরও শ্রীকৃষ্ণকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও ভক্তি অটুট। কেন তাঁর জন্মতিথি আজও কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এর উত্তর শুধু পুরাণের কাহিনিতে নয়; কৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে কর্তব্য, ন্যায়, মানবিকতা, আত্মসংযম, ভক্তি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা।
পুরাণে কৃষ্ণের আবির্ভাব
শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনি প্রধানত শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ, হরিবংশ ও মহাভারত-এর বিভিন্ন অংশে বর্ণিত হয়েছে। পুরাণীয় বিবরণ অনুযায়ী, মথুরার রাজা কংস ছিলেন অত্যাচারী শাসক। তাঁর বোন দেবকীর সঙ্গে যাদববংশীয় বসুদেবের বিবাহের পর দৈববাণী হয় দেবকীর অষ্টম সন্তান কংসের মৃত্যুর কারণ হবে।
এই ভবিষ্যদ্বাণীর পর কংস দেবকী ও বসুদেবকে কারাগারে বন্দি করেন এবং তাঁদের সন্তানদের একে একে হত্যা করেন। অবশেষে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির নিশীথে কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে।
পুরাণীয় কাহিনি অনুসারে, বসুদেব নবজাতক কৃষ্ণকে নিয়ে যমুনা নদী অতিক্রম করে গোকুলে যান এবং নন্দ ও যশোদার কাছে তাঁকে রেখে আসেন। এরপর গোকুল ও বৃন্দাবনে কৃষ্ণের শৈশব ও কৈশোরের নানা লীলার সূচনা হয়।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এই আবির্ভাবকে অত্যাচার ও অন্ধকারের মধ্যে আলোর আগমন এবং অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্ম প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
‘ধর্মসংস্থাপনার্থায়’ কৃষ্ণের দর্শন
শ্রীকৃষ্ণের ধর্মীয় ও দার্শনিক গুরুত্ব সবচেয়ে গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-য়। মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুন যখন আত্মীয়-স্বজন ও গুরুজনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নৈতিক সংকটে ভেঙে পড়েছিলেন, তখন কৃষ্ণ তাঁকে যে উপদেশ দেন, সেটিই পরবর্তীকালে ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত হয়।
গীতায় কৃষ্ণ বলেন-
“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত,
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।”
অর্থাৎ, যখনই ধর্মের অবক্ষয় এবং অধর্মের উত্থান ঘটে, তখনই ঈশ্বর ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য আবির্ভূত হন এমনই গীতার ধর্মদর্শন।
এখানে ‘ধর্ম’ বলতে কেবল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচরণ বোঝানো হয় না। গীতার প্রেক্ষাপটে ধর্মের সঙ্গে কর্তব্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই কৃষ্ণের দর্শন যুগের সীমা অতিক্রম করে আজও প্রাসঙ্গিক।
কর্মযোগ: ফলের প্রত্যাশা নয়, কর্তব্যই মুখ্য
গীতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো কর্মযোগ। কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন-
“কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।”
অর্থাৎ, মানুষের অধিকার কর্মে, কর্মফলের ওপর নয়।
আধুনিক জীবনেও এই দর্শনের গুরুত্ব অসাধারণ। মানুষ অনেক সময় ফলাফল, প্রশংসা, অর্থ কিংবা সামাজিক স্বীকৃতির চিন্তায় নিজের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হয়। কৃষ্ণের কর্মযোগ সেখানে আত্মনিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতার শিক্ষা দেয়।
একজন শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা দেবেন, একজন চিকিৎসক আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীর সেবা করবেন, একজন কৃষক পরিশ্রম করবেন এবং একজন প্রশাসক ন্যায়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন ফল কী হবে, তার চেয়ে নিজের কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করাই মুখ্য।
জ্ঞান, ভক্তি ও কর্ম-তিন পথের সমন্বয়
গীতায় কৃষ্ণ শুধু কর্মের কথা বলেননি; তিনি জ্ঞান ও ভক্তির কথাও বলেছেন। হিন্দু দর্শনের বিভিন্ন ধারায় জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ ও ভক্তিযোগ গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক পথ হিসেবে বিবেচিত।
কৃষ্ণের দর্শনের বিশেষত্ব হলো মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বিভিন্ন পথের সমন্বয় ঘটানো। কেউ জ্ঞানের মাধ্যমে সত্য উপলব্ধি করতে পারেন, কেউ নিষ্কাম কর্মের মাধ্যমে, আবার কেউ ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন।
এই বহুমাত্রিক দর্শন হিন্দু ধর্মীয় চিন্তার উদারতা ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রকে প্রকাশ করে।
বৃন্দাবনের কৃষ্ণ: ধর্ম থেকে সংস্কৃতিতে
কৃষ্ণ শুধু কুরুক্ষেত্রের দার্শনিক নন; তিনি বৃন্দাবনের গোপালও। তাঁর বাল্যলীলা, বাঁশির সুর, গোপালদের সঙ্গে খেলাধুলা, গোপীদের সঙ্গে লীলা এবং রাধার সঙ্গে প্রেমের আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ভারতীয় সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে বৈষ্ণব দর্শনে সাধারণ পার্থিব প্রেমের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি জীবাত্মার পরমাত্মার প্রতি আকর্ষণ ও আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
এই ভাবধারাই পরবর্তীকালে বৈষ্ণব পদাবলি, কীর্তন, ভজন, কবিতা, সংগীত ও চিত্রকলায় অসংখ্য সৃষ্টির জন্ম দিয়েছে।
বাংলার বৈষ্ণব সংস্কৃতিতে কৃষ্ণ
বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে শ্রীকৃষ্ণের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। মধ্যযুগে বৈষ্ণব আন্দোলন কৃষ্ণভক্তিকে বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেয়। শ্রীচৈতন্যদেবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গৌড়ীয় বৈষ্ণবধারা কৃষ্ণপ্রেম, নামসংকীর্তন ও ভক্তিকে ধর্মীয় সাধনার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করে।
চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসসহ বহু কবির পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, বিরহ ও ভক্তির আবেগ প্রকাশ পেয়েছে। বাংলার কীর্তন সংস্কৃতি, বৈষ্ণব পদাবলি এবং কৃষ্ণকেন্দ্রিক লোকাচারের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়েছে।
জন্মাষ্টমী: ধর্মীয় উৎসব থেকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে জন্মাষ্টমী একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পূজা, নামসংকীর্তন, গীতাপাঠ, ভাগবত আলোচনা, ভজন, আরতি ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনেরও দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসই প্রকাশ পায় না; বরং উপমহাদেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রকাশ ঘটে।
কৃষ্ণের জন্মলীলাকে কেন্দ্র করে শিশুদের কৃষ্ণ-রাধার সাজ, ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করে।
উপবাসের আধ্যাত্মিক শিক্ষা
জন্মাষ্টমীতে অনেক ভক্ত উপবাস বা সংযম পালন করেন। এর উদ্দেশ্য শুধু খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা নয়; এর সঙ্গে আত্মসংযম, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক সাধনার সম্পর্ক রয়েছে।
ধর্মীয় আচার তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সারাদিন উপবাস রেখে যদি মানুষের প্রতি ঘৃণা, হিংসা বা অন্যায় আচরণ অব্যাহত থাকে, তাহলে সেই উপবাসের অন্তর্নিহিত আত্মিক শিক্ষা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
কৃষ্ণের শিক্ষা তাই বাহ্যিক আচারকে অতিক্রম করে মনের পরিশুদ্ধি ও নৈতিক জীবনের দিকে আহ্বান জানায়।
উৎসবের আড়ম্বর বনাম উৎসবের শিক্ষা
বর্তমান সময়ে ধর্মীয় উৎসবগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাপক আয়োজন ও ব্যয়ের সঙ্গে পালিত হয়। আলোকসজ্জা, মঞ্চ, সাজসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আয়োজন উৎসবকে আকর্ষণীয় করে তোলে। এগুলোর নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যও রয়েছে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায় উৎসবের বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য আমরা কতটুকু করি?
একটি মন্দিরে হাজার হাজার মানুষের জন্য প্রসাদের আয়োজন হচ্ছে, অথচ পাশের বাড়ির অসহায় পরিবারটি হয়তো চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে পারছে না এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবতে বাধ্য করে।
শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা যদি সত্যিই হৃদয়ে ধারণ করতে হয়, তাহলে জন্মাষ্টমীর দিনে আমাদের সংকল্প হতে পারে ভক্তির পাশাপাশি সেবা, পূজার পাশাপাশি মানবকল্যাণ এবং উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির বার্তা
বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। ধর্মীয় উৎসবগুলো তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করে।
জন্মাষ্টমী উদযাপন শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহ্যের প্রকাশ নয়; এটি উপমহাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেরও একটি অংশ।
একটি সুস্থ সমাজে প্রত্যেক মানুষ নিজের ধর্মীয় আচার শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে এবং অন্যের ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারকে সম্মান করবেএটাই হওয়া উচিত সভ্যতার পরিচয়।
কৃষ্ণের শিক্ষা আজ কেন প্রাসঙ্গিক?
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন বাড়ে এবং ব্যক্তিস্বার্থ অনেক সময় নৈতিকতার ওপর প্রাধান্য পায়।
এই বাস্তবতায় কৃষ্ণের দর্শন আমাদের কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় আমরা কি নিজের কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করছি? অন্যায় দেখলে কি নীরব থাকছি? আমরা কি ধর্মকে শুধু আচার হিসেবে দেখছি, নাকি নৈতিকতার পথ হিসেবে গ্রহণ করছি? আমরা কি নিজের অধিকার চাই, কিন্তু অন্যের অধিকারকে সম্মান করি না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়েই কৃষ্ণের দর্শনের আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা উপলব্ধি করা যায়।
কৃষ্ণ মানে শুধু পূজা নয়, একটি জীবনদর্শন
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি শুধু মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো বা জন্মাষ্টমীর রাতে পূজা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তাঁর দর্শনের পূর্ণতা আসে না।
কৃষ্ণের শিক্ষা মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো। কৃষ্ণের শিক্ষা মানে নিজের কর্তব্য থেকে পলায়ন না করা। কৃষ্ণের শিক্ষা মানে অহংকার ও আসক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা। কৃষ্ণের শিক্ষা মানে জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তির সমন্বয়। কৃষ্ণের শিক্ষা মানে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।
তাই জন্মাষ্টমীর প্রকৃত মাহাত্ম্য নিহিত রয়েছে কৃষ্ণের জন্মকে স্মরণ করার পাশাপাশি কৃষ্ণের জীবনদর্শনকে ধারণ করার মধ্যে।
বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন পৃথিবীতে বেড়ে উঠছে। তাদের কাছে ধর্মীয় ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে হলে শুধু পুরোনো কাহিনি বললেই হবে না; সেই কাহিনির নৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও ব্যাখ্যা করতে হবে।
কৃষ্ণের জীবনকে সাহিত্য, সংগীত, নাটক, চিত্রকলা, ইতিহাস ও দর্শনের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা গেলে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ঐতিহ্যকে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানগুলো তাই শুধু বিনোদননির্ভর না হয়ে গীতাপাঠ, শাস্ত্র আলোচনা, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা, কুইজ, আবৃত্তি, সংগীত এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনির সূচনা হয় কারাগারের অন্ধকারে। চারদিকে ভয়, অত্যাচার ও অনিশ্চয়তা। সেই অন্ধকারেই আবির্ভাব ঘটে কৃষ্ণের।
এটি নিছক একটি পুরাণকাহিনি হিসেবে দেখলেও এর প্রতীকী শিক্ষা গভীর অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলোর সম্ভাবনা কখনো শেষ হয়ে যায় না।
আজকের সমাজেও যখন অন্যায়, হিংসা, বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্য আমাদের উদ্বিগ্ন করে, তখন জন্মাষ্টমী আমাদের সেই আলোর কথাই মনে করিয়ে দেয়।
তাই এবারের জন্মাষ্টমীতে শুধু মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা নয় নিজের অন্তরের অন্ধকার দূর করার সংকল্প হোক। শুধু কৃষ্ণের নাম নয় কৃষ্ণের কর্ম ও দর্শনকে জীবনে ধারণের চেষ্টা হোক। শুধু উৎসব নয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার হোক।
ধর্ম হোক মানবতার জন্য, ভক্তি হোক নৈতিকতার শক্তি, আর জন্মাষ্টমী হোক অন্যায়ের অন্ধকার ভেদ করে সত্য, ন্যায়, প্রেম ও মানবতার আলো জ্বালানোর উৎসব।