রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যাসহ সহিংসতার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল রংপুরের হত্যাকাণ্ডকে রহস্যজনক দাবি করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি ঐক্য পরিষদের পটিয়ায় শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬তম আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে বিশ্বশান্তি গীতা পুষ্পযজ্ঞ ব্রেন স্ট্রোকে শয্যাশায়ী বিরণ আচার্য্য, চিকিৎসায় প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা মীরসরাইয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারে হামলা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও হরিনামে মুখর রাঙ্গুনিয়া, ভক্তির আবেশে শেষ হলো ঝুলনযাত্রা বাগেরহাটে, রামপালে সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিদ্যাপীঠের উদ্বোধন ভাবগাম্ভীর্য ও সনাতনী ঐতিহ্যে সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরুমহারাজের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উদযাপন

রংপুরের হত্যাকাণ্ডকে রহস্যজনক দাবি করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি ঐক্য পরিষদের

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :  অনলাইন সংস্করণ | সত্য সনাতন টিভি 

 

‘ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই’ এবং ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এমন স্লোগানকে সামনে রেখে রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রংপুরের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেশের চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ব্যানার ও বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে অংশ নেন। ব্যানারে লেখা ছিল ‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক : চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মিলবে কোন পথে’। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

 

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

 

ঐক্য পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা আড়াল বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

 

তবে এসব অভিযোগকে সংগঠনটির বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে; হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।

 

সমাবেশে বক্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, সহিংসতা, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অন্যান্য নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে না থাকেন, তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

 

তাদের বক্তব্যে উঠে আসে রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবি জানান তারা।

 

জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও সভাপতিত্ব করেন। যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা সমাবেশ পরিচালনা করেন। এতে কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, মিলন কান্তি দত্ত, ডিএন চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জয়ন্তী রায়, পদ্মাবতী দেবী, অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দিপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস ও দিপংকর চন্দ্র শীলসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

 

বক্তারা রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের সব নাগরিকের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

 

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের বিচার, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার এবং দেশের সব নাগরিকের সমঅধিকার ও নিরাপত্তার দাবিটি আবারও সামনে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews