মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সবুজের বুকে শান্তির প্রতীক দীঘিনালা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী সনাতন শিব মন্দিরে ভক্তির জোয়ার খুলনায় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের ৪৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি শ্রীমঙ্গলে দুই রাতে আট মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরি মহেশখালীতে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূ শিল্পী শীলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা প্রকৃতির কোলে দেবালয়: বোয়ালখালী শ্রী শ্রী নারায়ন মন্দির চকরিয়ায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহোৎসব ও মহানামযজ্ঞ গীতা ও নৈতিক শিক্ষায় নতুন প্রজন্ম গড়ছেন তাপস দাশ দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন বান্দরবানে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় রাধা-কৃষ্ণের সাজে নজর কাড়ল দুই তরুণী জন্মাষ্টমীতে হিন্দু মহাজোটের দিনব্যাপী কর্মসূচি, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সংরক্ষিত আসনের দাবি

সবুজের বুকে শান্তির প্রতীক দীঘিনালা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী সনাতন শিব মন্দিরে ভক্তির জোয়ার

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : অনিক দাশ দেবাশীষ | খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

দীঘিনালার প্রাণকেন্দ্রে, সবুজ বৃক্ষরাজির সান্নিধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভক্তদের তীর্থস্থান দীঘিনালা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী সনাতন শিব মন্দির। শ্বেত-শুভ্র গম্বুজ আর নীলাভ কারুকাজে সুশোভিত এই মন্দিরটি শুধু উপাসনার স্থান নয়, এটি এই অঞ্চলের সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন।

 

মন্দির প্রাঙ্গণে পা রাখলেই অনুভব করা যায় এক অপার্থিব প্রশান্তি। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা এখানে এসে মনোবাসনা নিবেদন করেন ভোলানাথের চরণে। মন্দিরের চারপাশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ভক্তদের মনে এনে দেয় স্বর্গীয় অনুভূতি।

 

মন্দির কমিটির সভাপতি *শ্রী নলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা* বলেন, _”এই মন্দির আমাদের বিশ্বাসের প্রতীক। আমরা চাই প্রতিটি মানুষ এখানে এসে মানসিক শান্তি খুঁজে পাক। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আমরা সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি।”_

 

সাধারণ সম্পাদক *শ্রী শিবু চন্দ্র দে* বলেন, _”আমাদের লক্ষ্য হলো ধর্মীয় চেতনার পাশাপাশি সমাজের কল্যাণে কাজ করা। মন্দিরকে কেন্দ্র করেই আমরা সনাতনী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।”_

 

এই মন্দিরে সারা বছর ধরে নানা ধর্মীয় আয়োজন হয়ে থাকে। তবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো *শারদীয় দুর্গা পূজা, শিব চতুর্দশী ও মহোৎসব*। এই সময়গুলোতে মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় ভক্তদের মিলনমেলায়। ঢাক-ঢোল, কীর্তন আর ভক্তিমূলক গানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

 

শিব চতুর্দশীতে সহস্রাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে। সারাতব্যাপী পূজা-অর্চনা ও জাগরণের মাধ্যমে পালিত হয় এই মহাতিথি। দুর্গা পূজার সময় ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণ মন্দিরের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

উক্ত মন্দির টি ১৯৪২ সালে শ্রী শ্রী ওমকার গিরি মহারাজ প্রতিষ্ঠা করেন।শিব মন্দিরের তৎকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ওমকার গিরি মহারাজ। তৎকালীন সময়ে শিব চতুর্দশী মেলা ১ মাস দিনব্যাপী চলতো বলে জানান স্থানীয় ভক্তরা

 

সামাজিক কাজে ত্রিশুল ধারী সংঘ

শুধু ধর্মীয় কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয় এই মন্দির। উক্ত মন্দিরের আওতাধীন *”ত্রিশুল ধারী সংঘ”* নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

সংগঠনটি মন্দিরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা, শীত ও দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও তারা অগ্রণী। সত্য সনাতন টিভি

 

সংঘের এক সদস্য জানান, _”আমরা বিশ্বাস করি, সেবাই পরম ধর্ম। মন্দিরের ছায়ায় থেকেই আমরা সমাজের বঞ্চিত মানুষদের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই।”_

 

দীঘিনালা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী সনাতন শিব মন্দির আজ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও শিবু চন্দ্র দে-এর নেতৃত্বে এবং ত্রিশুল ধারী সংঘের সক্রিয় সহযোগিতায় মন্দিরটি আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

সবুজে ঘেরা এই মন্দির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সনাতন ধর্মের গৌরবময় ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews