
নিজস্ব প্রতিবেদক : রিংকু দাশ | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পরপর দুই রাতে আটটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের ভীমসী, বাবুর বাজার, শাসন ও ভুনবীর গ্রামের বিভিন্ন মন্দির ও পারিবারিক ঠাকুরঘরে এসব চুরি হয়। এ সময় পিতলের মূর্তি, পিতল-কাঁসার পূজার সামগ্রী এবং প্রণামির বাক্সের টাকা নিয়ে গেছে চোরেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভুনবীর ইউনিয়নের ভীমসী বাজার ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি মন্দির ও বাড়ির ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই রাতে একটি সর্বজনীন মন্দিরসহ চারটি ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি হয়।
এর দুই দিন পর ৫ সেপ্টেম্বর রাতে একই ইউনিয়নের শাসন গ্রামের শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির এবং তিনটি পারিবারিক ঠাকুরঘরে আবারও চুরি হয়। চোরেরা শ্রী মানবেন্দ্র ভট্টাচার্য, নারায়ণ ভট্টাচার্য ও সুধা ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘরে ঢুকে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যায়। সত্য সনাতন টিভি
চুরি হওয়া জিনিসের মধ্যে রয়েছে পিতলের তৈরি মূর্তি, পিতল ও কাঁসার বাসনপত্র এবং পূজায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী। কয়েকটি স্থানের প্রণামির বাক্স ভেঙে নগদ টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভুনবীর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দেব বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোররাতের মধ্যে দুই দফায় এসব চুরির ঘটনা ঘটে। পারিবারিক ও সর্বজনীন মিলিয়ে মোট আটটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরি হয়েছে।
পাত্রকুল শ্রীশ্রী শিববাড়ি পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ জীবন দেব বলেন, একের পর এক মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।