
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কলমপতি গ্রাম বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো উল্লেখ করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যেমন রাউজান বহু বীরসন্তানের জন্ম দিয়ে গৌরবের স্বাক্ষর রেখেছে, তেমনি কৃষ্ণভাবনামৃত ও সনাতনী সংস্কৃতির প্রসারে এই জনপদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে স্থানীয় ভক্ত ও গবেষকদের অভিমত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইসকনের প্রথম নিজস্ব কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাউজানের পূর্বাঞ্চলের কলমপতি গ্রামে। এই কেন্দ্রকে ঘিরেই পরবর্তীকালে দেশে ইসকনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয় এবং বাংলাদেশে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
স্থানীয়দের মতে, বাংলাদেশে ইসকনের প্রাথমিক পর্যায়ের বহু পৃষ্ঠপোষক ও সংগঠকের জন্ম এই কলমপতি গ্রামে। তাঁদের মধ্যে গোপেন্দ্র সরকার ও আর. এন. দত্তের মতো ব্যক্তিত্বের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যারা সংগঠনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে জানা যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজসহ বহু আচার্য, গুরু ও ভক্তবৃন্দের পদধূলিতে ধন্য এই ভূমি আজও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন বহন করে চলেছে। বিশেষ করে শ্রীপাদ নিষ্ঠুলা দাস ব্রহ্মচারীর নিজের হাতে নির্মিত বলে পরিচিত প্রথম কেন্দ্রটি এখনও স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও সংরক্ষণে টিকে আছে।
জানা যায়, শ্রীল প্রভুপাদের কৃপাধন্য পাশ্চাত্যদেশীয় শিষ্য শ্রীপাদ নিষ্ঠুলা দাস ব্রহ্মচারী অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে দীর্ঘ সময় এই মাটির ঘরে অবস্থান করে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর পবিত্র দেহ শ্রীশ্রী পুন্ডরীক ধামের পুণ্যভূমিতে সমাহিত করা হয়।
বর্তমানে সারা দেশে ইসকনের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হলেও, সংগঠনের প্রাথমিক ইতিহাস ও শিকড়ের সন্ধানে আগ্রহীদের জন্য রাউজানের প্রত্যন্ত কলমপতি গ্রাম এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বাংলাদেশের ইসকন আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে এই ঐতিহাসিক কেন্দ্র ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমান গুরুত্ব বহন করবে।