
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম শ্রদ্ধেয় মহাপুরুষ ও যোগসাধক বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী-এর ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ, ৩ জুন (১৯শে জ্যৈষ্ঠ)। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত লোকনাথ মন্দির, আশ্রম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে স্মরণ করা হচ্ছে।
আধ্যাত্মিক সাধনা, মানবসেবা, ত্যাগ ও ধর্মীয় চেতনার উজ্জ্বল প্রতীক বাবা লোকনাথ দীর্ঘ সাধনাজীবনে মানবকল্যাণ, সত্য, ন্যায় এবং ভক্তির পথ অনুসরণের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁর অলৌকিক জীবনকাহিনি, আধ্যাত্মিক শক্তি এবং অসহায় মানুষের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা তাঁকে কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।
তিরোধান দিবস উপলক্ষে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যায়। দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ, নামসংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, মহাযজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণ এবং বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। অনেক স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ ও মানবসেবামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
ভক্তদের বিশ্বাস, জীবদ্দশায় যেমন বাবা লোকনাথ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তেমনি আজও তাঁর কৃপা ও আশীর্বাদ ভক্তদের জীবনকে আলোকিত করে। ফলে তিরোধান দিবস তাঁদের কাছে শুধু স্মরণ নয়, আত্মিক শক্তি ও অনুপ্রেরণা অর্জনেরও একটি বিশেষ দিন।
ধর্মীয় বক্তারা বলেন, বাবা লোকনাথের জীবন শুধু আধ্যাত্মিকতার নয়, মানবতারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানবসেবাকে সর্বোচ্চ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান সমাজে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর জীবনাদর্শ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণকারী বাবা লোকনাথ প্রায় ১৬০ বছর পৃথিবীতে অবস্থান করার পর ১৮৯০ সালের ১৯শে জ্যৈষ্ঠ মহাসমাধিতে লীন হন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতিবছর এই দিনে তাঁর তিরোধান দিবস পালিত হয়ে আসছে।
ভক্তসমাজের কাছে দিনটি কেবল একটি স্মরণ দিবস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, ভক্তি ও মানবকল্যাণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ারও একটি বিশেষ উপলক্ষ। বাবা লোকনাথের অমর বাণী “রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে যেখানেই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিও, আমিই রক্ষা করিব” আজও কোটি মানুষের বিশ্বাস, ভরসা ও আস্থার প্রতীক হয়ে রয়েছে।