
‘অল্টারনেটিভ’-এর জাতীয় সংগঠক দুর্জয় দাশগুপ্তের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সুস্মিতা কর নিজের ফেইসবুক পোস্টে পাল্টা মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টারে দুর্জয় দাশগুপ্তকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হিন্দু সম্প্রদায় ছিল সরকারের অন্যতম বড় ‘ট্রাম্প কার্ড’ এবং আওয়ামী লীগ না থাকলে দেশে হিন্দুদের টিকে থাকা কঠিন হবে বলে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি ব্যবহৃত হওয়ার পেছনেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বয়ানের প্রভাব রয়েছে।
এই বক্তব্যের জবাবে সুস্মিতা কর তাঁর ফেইসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকার পর গত দুই বছরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এসব ঘটনার শিকার সাধারণ মানুষ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না।
পোস্টে সুস্মিতা কর আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার পরিবারগুলোর জন্য অনুদান দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সাবেক উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতা মাহফুজ আলমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ জানতে চান।
সুস্মিতা কর তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়কে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর প্রবণতা তাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনকে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলার ঘটনাকে দলীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। সত্য সনাতন টিভি
পোস্টের শেষাংশে তিনি শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করলেও হিন্দু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনার বিরোধিতা করেন। তাঁর ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের নাম জড়িয়ে তাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বৈধতা দেওয়ার রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে দুর্জয় দাশগুপ্ত বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।