
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক মন্দিরের হিসাবরক্ষকের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা স্বর্ণালংকার, দুর্গাপূজার চাঁদার টাকা, নগদ অর্থ ও পরিবারের সদস্যদের গয়না নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ও টাকা চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর দাসপাড়া এলাকায় শ্রী শ্রী সর্বজননী মন্দিরের পাশে। রোববার দিবাগত রাতের কোনো একসময় এ চুরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী অনাথ দাস ওই মন্দিরের হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে আছেন। পাশাপাশি তিনি মথুরাপুর বাজারে জুতা ও স্যান্ডেলের ব্যবসা করেন। দুর্গাপূজা সামনে রেখে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা চাঁদার একটি অংশ তাঁর কাছে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬১ হাজার ৫০০ টাকা চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অনাথ দাস জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসে তাঁর একমাত্র মেয়ে অর্পিতা দাসের বিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য আগে থেকেই কিছু স্বর্ণালংকার তৈরি করে রেখেছিলেন। চোরেরা সেসব গয়নার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর স্বর্ণালংকার এবং বাড়িতে থাকা নগদ টাকাও নিয়ে গেছে।
সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ওয়ারড্রব, ড্রেসিং টেবিল ও শোকেসের ড্রয়ার খোলা ছিল। ঘরের বিভিন্ন স্থানে কাপড় ও আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিল। পরে জিনিসপত্র খুঁজতে গিয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন তাঁরা।
অনাথ দাস বলেন, রাতে খাওয়ার পর পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দুইটার দিকে তাঁর স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পরিস্থিতি দেখে আবার ঘুমাতে যান। তখন কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। সকালে ঘরের অবস্থা দেখে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাঁর ধারণা, চোরেরা বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
অনাথ দাসের স্ত্রী বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখেছি সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। সকালে উঠে দেখি ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো। গয়না ও টাকা খুঁজে না পেয়ে আমরা কান্নাকাটি শুরু করি। পরে প্রতিবেশীরা এসে আমাদের পাশে দাঁড়ান।’
চুরির খবর পেয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের দৌলতপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বাবু দেবনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার ও টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।