
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা প্রতিনিধি
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, পূজার আগে ও পরে এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে অতীতে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে হিন্দু মহাজোট। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পলাশ কান্তি দে অভিযোগ করেন, কোনো কোনো ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তারের পর জামিনে বের হয়ে মামলার বাদী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এতে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গত নয় মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪৬ জনের হত্যা ও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। এ তালিকায় ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা এবং একই জেলার একটি ড্রামের ভেতর নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চিকিৎসক, শিক্ষক, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হিন্দু মহাজোটের নেতারা। এ ছাড়া কয়েকটি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।
পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে পলাশ কান্তি দে বলেন, ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি স্থানে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় হামলা বা ভাঙচুরের আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে সরকারি অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পূজা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে থেকে পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, আগামী বছর থেকে দুর্গাপূজার অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই তিন দিন সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে হবে।
চার দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—
১. আগামী বছর থেকে দুর্গাপূজার অষ্টমী, নবমী ও দশমী তিন দিন সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা।
২. প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে সরকারি অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পূজার ১০ দিন আগে থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা।
৩. সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা।
৪. দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং সেল গঠন করা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় নির্বাহী সভাপতি সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাসসহ হিন্দু মহাজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।