বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু, বিয়ের বাড়িতে আনন্দের বদলে কান্না ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি দেখছে না সরকার ফটিকছড়িতে মন্দিরে ফের চুরি দুর্গাপূজায় পাঁচ দিনের ছুটিকে স্বাগত জানালেন বিপ্লব দে পার্থ পিতৃপক্ষে কেন পূর্বপুরুষদের স্মরণে শ্রদ্ধা-তর্পণ করা হয় দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়িয়ে শুক্র, শনি সহ ছুটি থাকছে ৫ দিন খাগড়াছড়িতে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির মিরসরাইয়ে অবসর নেওয়া শিক্ষককে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি পৌঁছে দিল শিক্ষার্থীরা সাইকেলে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে রাঙামাটির বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু, বিয়ের বাড়িতে আনন্দের বদলে কান্না

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ

 

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে বাড়িতে তখন উৎসবের আমেজ। আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা, অতিথি আপ্যায়ন আর নতুন বউকে ঘিরে ব্যস্ততায় মুখর ছিল পুরো বাড়ি। এর মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের আরাজি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সত্য সনাতন টিভি

 

নিহত দুই শিশু হলো—বদরগঞ্জ উপজেলার চম্পাতলী মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের রুপা রানী (১০) এবং তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের কাচনা গ্রামের পঞ্চমী রানী রায় (৮)। তারা পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো বোন বলে জানিয়েছে পরিবার।

 

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার রাতে আরাজি গ্রামের রতন চন্দ্র রায়ের বিয়ে হয়। বিয়েতে অংশ নিতে তাঁর বোন ওমালা রানী ১০ বছরের মেয়ে রুপাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আসেন। একইভাবে রতনের বড় ভাই অজয়ের শ্যালিকা মিনতি রানী রায় তাঁর আট বছরের মেয়ে পঞ্চমীকে নিয়ে সেখানে আসেন।

 

বুধবার ছিল বিয়ের পরের ফিরানি অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিও ছিল বেশি। দুপুরের দিকে রুপা ও পঞ্চমী গোসল করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাদের খুঁজতে বের হন।

 

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়রা আরাজি গ্রামের সুধীর রায়ের পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর বিকেল তিনটার দিকে পানির নিচ থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

দুই শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিয়েবাড়ির পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায়। আনন্দের জায়গা নেয় কান্না ও আহাজারি। স্বজনদের অনেকেই ভেঙে পড়েন।

 

রুপার মা ওমালা রানী মেয়ের মরদেহের পাশে বিলাপ করছিলেন। তিনি বলেন, মামার বিয়েতে আনন্দ করবে বলেই মেয়েকে সঙ্গে করে এনেছিলেন। এখন মেয়ের মরদেহ নিয়ে কীভাবে বাড়ি ফিরবেন, তা ভেবে কাঁদছেন তিনি। সত্য সনাতন টিভি

 

পঞ্চমীর মা মিনতি রানীও মেয়েকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর মেয়ের কাছে যেতে চাইলে স্বজনেরা তাঁকে ধরে রাখেন। তাঁর আহাজারিতে ঘটনাস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন বলেন, বিয়ের কারণে বাড়িটিতে স্বজনদের ভিড় ছিল। দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সেই বাড়িতেই এখন শোকের পরিবেশ। স্থানীয় লোকজন পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

 

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews