
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নয়; বরং ছিল অধিকার আদায় এবং একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র নির্মাণের সংগ্রাম।
আজ ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের ষড়যন্ত্রে সৃষ্টি হয়নি। এটি ছিল সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে একটি জনযুদ্ধ।” তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান। সত্য সনাতন টিভি
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে টুকু বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশ এক ধরনের নেতৃত্ব সংকটে পড়ে। সেই সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে তিনি জেড ফোর্স গঠন করে যুদ্ধে অংশ নেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কারণে জিয়াউর রহমানের বীরত্বপূর্ণ অবদান খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করেন।
টুকু আরও বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম মা, মাটি ও দেশের মানচিত্র রক্ষার জন্য; কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির আশায় নয়। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।” সত্য সনাতন টিভি
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসদের ভূমিকা দেশবাসী ভুলে যায়নি। অথচ সেই শক্তিগুলোই এখন নতুনভাবে সক্রিয়।” এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি খালেদা জিয়া-র অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকারের সময়ই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন এবং ভাতা চালু করা হয়।
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, পৌর প্রশাসক শাহাদাত হোসেন, সিভিল সার্জন নুরুল আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সত্য সনাতন টিভি
অনুষ্ঠান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।