বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ের অবসান: নোয়াখালীতে ভেঙে ফেলা হলো ৫০০ বছরের প্রাচীন সমাধি-মঠ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শরীয়তপুরে শুরু হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব পেকুয়ায় বন্যার্তদের দ্বিতীয় দফায় শুকনো খাবার বিতরণ আগামীকাল রথযাত্রা, ভক্তদের টানে পথে নামেন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা ফরিদপুরে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ইসকনের উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ‌মহোৎসব শুরু ১৬ জুলাই জয় শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা ক্ষেত্র মন্দির (গ্রুপ)’–এর উদ্যোগে রংপুরের পীরগঞ্জে মহতী শ্রীগীতা দান অনুষ্ঠান টিউশনির বকেয়া টাকা চাইতেই শিক্ষক সিঁথি সীমিতার ওপর নৃশংস হামলা এইচএসসি পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় আত্মহত্যা, রাজশাহীতে প্রাণ হারালেন দিশা রানী মহন্ত বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে প্রবীণের দুই আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগ: নরসিংদী পৌরসভায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার অন্তঃসত্ত্বা নারী, এক মাসেও মিলল না মুক্তি, প্রশ্ন মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২২৪ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা শহরের মনোহরপুর এলাকা থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারী তৃষা দাস চৌধুরী এক মাস পার হলেও মুক্তি পাননি। অভিযোগ উঠেছে প্রযুক্তিগত প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনাও অব্যাহত রয়েছে।

 

 

গত সপ্তাহে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার একটি দল তৃষাকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে। অভিযোগ ছিল ‘তৃষা দাস চৌধুরী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছে। থানায় অভিযোগ করেন ‘টিম প্রোটেক্ট আওয়ার সিস্টার্স বিডি’র কয়েকজন সদস্য। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা শাখার আমির মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানি।

 

পুলিশ জানায়, স্থানীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় “তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা” হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

 

তৃষার পরিবারের দাবি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁরা বলেন, সংশ্লিষ্ট আইডিটি তাঁর নয়, আর তাঁর ফোনে কোনো আপত্তিকর পোস্টও পাওয়া যায়নি।

পরিবারের এক সদস্য বলেন,

“আমরা পুলিশের কাছে ফোন পরীক্ষা করে দেখার অনুরোধ করেছি। কিন্তু এখনো কোনো স্ক্রিনশট, লিংক বা প্রযুক্তিগত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়নি।”

 

পুলিশ–সূত্রও জানিয়েছে, জব্দ করা মোবাইল ফোনের বিশ্লেষণ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

 

 

তৃষা দাস চৌধুরী অন্তঃসত্ত্বা এ তথ্য স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মানসিক চাপ মায়ের পাশাপাশি অনাগত সন্তানের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

কিন্তু আদালত প্রাথমিক অভিযোগ গ্রহণ করেই তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর কারাবাস “মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন”।

 

স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠন অভিযোগ করেছে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে মামলা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

তাঁদের অভিযোগ,

“ধর্ম অবমাননার অভিযোগ অনেক সময়ই প্রমাণ ছাড়া করা হয়। এগুলো ভয় দেখানো এবং সংখ্যালঘুদের প্রান্তিক করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।”

 

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। #FreeTrishaDas হ্যাশট্যাগে শুরু হয়েছে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।

 

তৃষার পরিবার তাঁর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হয়রানির তদন্ত দাবি করেছে।

পরিবারের একজন সদস্য বলেন,

“একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে কোনো প্রমাণ ছাড়া বন্দি রেখে কোনো সভ্য রাষ্ট্র এগোতে পারে না।”

 

এই ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত অগ্রগতি, প্রমাণ উপস্থাপন কিংবা জামিন কোনো দিকেই স্পষ্টতা মিলছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রমাণহীন অভিযোগে গ্রেপ্তার বিশেষ করে একজন গর্ভবতী নারীকে আইনি প্রক্রিয়া ও মানবিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্যালোচনা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews